নকশালবাড়ি : নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের পিছনে থাকা হাটশেডে প্রতিদিন বহিরাগতরা নেশার আসর বসাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে হাটশেড সংলগ্ন এলাকায় মদ-গাঁজার কেনাবেচা চলছে। এর ফলে সন্ধ্যার পর ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের টহলদারিও সেখানে দেখা যায় না। নজরদারির অভাবে সেখানে অবাধে চলে নেশার আসর। এলাকায় পুলিশের টহলদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ১৫ বছর আগে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের তরফে নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের পিছনে এই হাটশেডটি তৈরি করা হয়েছিল। এই হাটশেডে নকশালবাড়ি মাছ বাজার বসার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অসহযোগিতায় এখানে মাছ বাজার বসানো যায়নি। শনিবার এখানে নকশালবাড়ি এলাকার সাপ্তাহিক হাট বসে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে এই হাটশেডটি অন্ধকারে ঢেকে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই হাটশেডে রাতের অন্ধকারে অসামাজিক কাজকর্ম চললেও কোনো পুলিশি টহলদারি দেখা যায় না। এই হাটশেডের পাশেই রয়েছে নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চাযেের কার্যালয়। ফলে রোজ এই এলাকায় স্থানীয বাসিন্দাদের যাতায়াত লেগে থাকে। স্কুল পড়ুয়াদের সামনেই নেশার আসর বসে। স্থানীয় দোকানদার তুষারকান্তি বিশ্বাস বলেন, সন্ধ্যার পরে এখানে নেশার আসর বসে। অনেক সময় আসরে ঝগড়া-মারপিট শুরু হয়। এর ফলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। আমি দোকানের সামনে লাইট লাগিয়েছিলাম, কিন্তু দুষ্কৃৃতীরা সেগুলি ভেঙে দিয়েছে। অপর বাসিন্দা অভিজিত্ মণ্ডল বলেন, এই হাটশেডটি এখন এলাকাবাসীদের কাছে আতঙ্কের কারণ হযে দাঁড়িয়েছে। এখানে নেশার সামগ্রী বিক্রি করা হয়, রাত হলে নেশার আসরে ভিড় বেড়ে যায়। ভয়ে তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করতে হয়। নেশার আসর বন্ধ করতে পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে নকশালবাড়ি থানার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় টহলদারি আরও বাড়ানো হবে এবং আসর বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অরুণ ঘোষ বলেন, এই বিষয়ে কেউ আমাকে অভিযোগ জানাননি। তবে রাতের অন্ধকারে এমন কিছু হয়ে থাকলে বিষযটি পুলিশকে জানানো হবে।