শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : পুজোর আর বেশিদিন বাকি নেই। এলাকায় ফুটে ওঠা কাশফুল জানান দিচ্ছে মা আসছেন। উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলতে ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টা, তাসা নিয়ে তাঁরা হাজির হয়েছেন। অন্যরা যখন পুজোর জামাকাপড় কিনতে ব্যস্ত, তখন পুজোর পরে পরিবারের প্রত্যেকের হাতে জামাকাপড় তুলে দেওযার স্বপ্ন নিয়ে বীরভমের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে হাজির হয়েছেন গৌর, কৃষ্ণরা।

দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামাকাপড় পরে পুজোর অঞ্জলি। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে  আড্ডা এবং অবশ্যই ঢাকের তালে নাচ। ঢাকের ঢাং কুড়াকুড় শব্দের মাঝেই শহরবাসীর মনে একটু ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টা সহযোগে কুড়কুড়ি-র আলাদা আওয়াজ পৌঁছে দিতে গৌর দাস, কৃষ্ণ দাস সহ ছয় বন্ধু শিলিগুড়ি শহরে এসে হাজির হয়েছেন। বীরভূমের প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে শহরের  এই সম্পর্ক অবশ্য আটবছর পুরোনো। গৌরদের কথায়, এই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তারা মায়ের আশীর্বাদ। আট বছর আগে তারাপীঠ মন্দিরে কুড়কুড়ি বাজানোর সময় শহরের একটি ক্লাবের দুই কর্তার নজর পড়ে। তাঁরাই এই শহরের সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে দিয়েছেন। সেবার কালীপুজোয় প্রথমবারের জন্য তাঁরা এই শহরে আসার প্রস্তাব পান। এরপর ধীরে ধীরে বরাত বাড়ে। উপার্জনের আশায় তাঁরাও প্রতিবার পুজোর মরশুম আসতেই শহরে চলে আসেন। অর্থ উপার্জনের টানে পুজোর সময় পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্টও যে অনেকটাই গাঢ় তা শুভ দাসের কথাতেই শোনা গেল। গ্রামের কথা মনে করে বলে উঠলেন, আমাদের গ্রামে এই বাজনা বাজানোটাই পেশা। রোজ সন্ধ্যায় আমরা গ্রামের মানুষ একসঙ্গে এই বাজনাই বাজাই। এই বাজনাই আমাদের জীবন। তবে যখন পুজোর সময় সবাই পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে বেরোয় তখন আমাদেরও পরিবারের কথা খুব মনে পড়ে। কিন্তু অর্থকষ্ট দূর করার রাস্তা এই শহরই। তবে এই মন খারাপের মাঝেই এই বাজনার আওয়াজে শহরবাসীর নাচ কোথাও যেন তাঁদের দুঃখে মলমের কাজ করে বলে জানালেন রোহিত দাস। ঢোল বের করতে করতেই বলে উঠলেন, এই শহর আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে উঠেছে। প্রতিবারের মতো এবারেও কয়েকটি পুজো উদ্যোক্তার বরাত পেয়েছি। শহরবাসীকে নাচাতে পারলেই আমরা খুশি। শহরবাসীর ভালোবাসায় আমাদের পরিবারের সদস্যরা না হয়, পুজোর পরেই নতুন জামা পরবে।