ডিএসপি স্যারের কোচিংয়ে পুলিশে পেলেন চাকরি ৫৫ জন যুবক

2077

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : কারও বাবা পুজো-যজমানি করে কোনওরকমে সংসার চালান। কারও বাবা মাঠে ফসল ফলান। কারও বাবা বাজারের সবজি বিক্রেতা। প্রত্যেকের সংসারেই নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর দশা। ছেলেদের প্রত্যেকের স্বপ্ন অবশ্য ছিল একই সুতোয় গাঁথা। স্বপ্ন পুলিশ হওয়ার। সেই স্বপ্ন যখন পূরণ হল আবেগে চোখের জল ধরে রাখতে ব্যর্থ তাঁদের অনেকেই। চন্দন স্যর-এর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে একদিন যে সত্যিই তাঁর সহকর্মী হওয়ার সুযোগ মিলবে তা কেই বা ভেবেছিলেন! দীর্ঘ পরিশ্রমের পর স্বপ্ন আজ হাতের মুঠোয়। কোচবিহার জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে কোচবিহারের ৫৫ জন যুবক চাকরি পেলেন। মূলত, ডেপুটি পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) চন্দন দাস তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। জেলা পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকও সেখানে যুক্ত ছিলেন। ওই যুবকদের সাফল্যে পুলিশ আধিকারিকরাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।

চন্দনবাবু বলেন, আমিও মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। তাই দারিদ্র‌্য কী তা বুঝি। কনস্টেবল পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা শেষে কীভাবে ইন্টারভিউ দিতে হবে তা নিয়ে এই ছাত্ররা অবগত ছিল না। চাকরির জন্য নাকি টাকা দিতে হয় বলে অনেকের ভুল ধারণাও ছিল। আবার কেউ মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। এরকম প্রায় ৮০ জনকে নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৫৫ জন কনস্টেবলের চাকরি পেয়েছে। আমি খুব আনন্দিত। ভাবতেও ভালো লাগছে যাদের এতদিন প্রশিক্ষণ দিতাম তারাই এখন আমার সহকর্মী হচ্ছে।

- Advertisement -

জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, বেকার যুবক-যুবতীদের সরকারি চাকরির জন্য বরাবরই পুলিশের তরফে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সেখানে প্রশিক্ষণ দেন। এর আগে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারে এ ধরনের প্রশিক্ষণ পেয়ে অনেকেই সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সম্প্রতি পুলিশের তরফে চিলা রায় পাঠশালা নামে একটি কর্মসূচি করা হয়েছে। যেখানে পুলিশের তরফে চাকরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য পুলিশে কনস্টেবল পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা হয়। অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তার ইন্টারভিউ হয়েছে।

লিখিত পরীক্ষার পর বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী চন্দনবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন থেকেই ট্রাফিক পুলিশের দপ্তরে আলাদাভাবে তাঁদের ধাপে ধাপে ইন্টারভিউয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। প্রায় ৮০ জন চাকরিপ্রার্থী সেখানে অংশ নিয়েছিলেন।

সদ্য পুলিশের চাকরি পাওয়া সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, বাড়িতে মা-বাবা, ভাই রয়েছে। বাবা পেশায় পুরোহিত। আর্থিক অনটনের মধ্যে সংসার চলছে। আমার স্বপ্ন ছিল পুলিশ হব। কিন্তু অনেকের কাছে শুনে ধারণা হয়েছিল যে ঘুষ না দিলে চাকরি পাওয়া সম্ভব না। শেষে চন্দন স্যর সেই ভুল ধারণা ভেঙে দেন। তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে সাফল্য পেয়েছি। প্রতাপ রায় নামে আরেকজন বলেন, বৃহস্পতিবার ইন্টারভিউয়ে ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। যখন দেখলাম আমার নাম নির্বাচিত হয়েছে তখন বিশ্বাসই হয়নি। এর আগেও একবার পরীক্ষা দিয়েছিলাম কিন্তু উত্তীর্ণ হতে পারিনি। সঠিক প্রশিক্ষণের জন্যই চাকরিটা পেলাম। এবার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব। ইন্টারভিউয়ের ফলাফল প্রকাশ হতেই এদিন তাঁরা সাগরদিঘি সংলগ্ন ট্রাফিক পুলিশের দপ্তরে হাজির হন। সেখানে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁরা চন্দনবাবুকে কৃতজ্ঞতা জানান। কেক কাটার পাশাপাশি মিষ্টিমুখ করা হয়।