‘দুয়ারে সরকার’ ভারতের অভিনব কর্মসূচি: তৃণমূল

251

কলকাতা: অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবার তিলজলার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। পাশে দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকে বসিয়ে তিনি দাবি করেন, দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে যেভাবে বিগত ১০ বছর যাবৎ রাজ্য সরকার যেসব কাজ করেছেন তা পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে তা সারা ভারতের ক্ষেত্রে অভিনব। তিনি বলেন, আপাতত সারা রাজ্যে ১১,০৫০ টি শিবিরের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই গত কুড়ি ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের ১.৪২ মানুষের কাছে সরকার পৌঁছে যেতে সমর্থ হয়েছে। তাকে একটি রেকর্ড বলে উল্লেখ করেন ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, ওই বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা মানুষের সংখ্যা ছিল ৩৯ লক্ষ। একই সঙ্গে তিনি বলেন যে, প্রতিটি শিবিরে করোনা পরীক্ষার ও ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ একদিকে যেমন মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা দিকে নজর দেওয়া হয়েছে, তেমনি তাদের দাবি-দাওয়া গুলিকেও দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, ওই কর্মসূচির জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ৮৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

ওই সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বাবু জানিয়ে দেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী বোলপুরের চৌরাস্তা থেকে ডাকবাংলো মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন। নাম উল্লেখ না করে অমিত শাহর সাম্প্রতিক পদযাত্রাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন যে, ওই পদযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রী কোন গাড়ি করে অংশ নেবেন না। তিনি অংশ নেবেন পায়ে হেঁটে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলে থাকেন যে তিনি যেমন ঘুষ খাবেন না, তেমনি কাউকে ঘুষ খেতে দেবেন না। অথচ তারই দলের মন্ত্রী গজেন্দ্র শেরওয়াতকে ৯০০কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে নোটিশ পাঠিয়েছে হাইকোর্ট।

- Advertisement -

এদিন বিশ্বভারতীর শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে, ভার্চুয়াল ভাষণ দিয়েছেন তার তীব্র সমালোচনা করেন ব্রাত্য বাবু। তিনি বলেন, ওই ভাষণটি ছিল ভুল উচ্চারণের ভরা। সেই উচ্চারণের গন্ডগোলকে ছেড়ে দেওয়া গেলেও সেই ভাষণে দেওয়া ভুল তথ্যকে কোন মতেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে যেই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কবিগুরুর বড় ভাই হিসেবে উল্লেখ করেছেন আদতে তিনি ছিলেন কবিগুরুর মেজদা। ব্রাত্য বাবু বলেন, এদিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রীকে বারবারি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় গুজরাটের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগসূত্র প্রচার করার ব্যাপারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জ্ঞানদানন্দিনীকে গুজরাটি ঢঙের শাড়ি পড়া গুজরাটি মহিলারা শিখিয়েছিলেন। অথচ জ্ঞানদানন্দিনীকে পারসি রাও তাদের ঢঙে শাড়ি পরাতে শিখিয়েছিলেন সে কথাটি প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেননি।

তিনি আরো বলেন, সারা দেশের মধ্যে প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হল ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দিল্লি এমনকি লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করলেও তিনি তার ভাষণে একবারের জন্য কলকাতা বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করেননি।

তিনি বলেন, রাজ্যের সকল সম্প্রদায়ের ও সকল জাতের মানুষকে নিয়ে চলার যে বার্তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেখেছেন তাকে সম্মান না জানিয়ে বিজেপি দল তাদের আইটি সেলের মাধ্যমে নিত্যদিন তাঁর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছে। এদিন ব্রাত্য বাবু তার সাংবাদিক বৈঠকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন লেখা থেকে উদ্ধৃত করে জানান যে কীভাবে তিনি বরাবর সব ধর্ম সব জাতির ঐক্যের উপর জোর দিয়ে গিয়েছিল। অথচ এদিন প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে সে বিষয়ে উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকে গিয়েছেন