বারোকোণার রাস্তায় সাঁতার কাটছে হাঁস

- Advertisement -

গৌতম দাস, গাজোল : হাঁসের সাঁতার কাটা দেখে পুকুর বলে মনে হতেই পারে। কিন্তু সেটি পুকুর নয়, আলমপুর থেকে একলাখী যাওয়ার রাস্তার একটি অংশ। এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এমন দৃশ্য চোখে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আলমপুর থেকে একলাখীগামী প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে শেষ ৩ কিলোমিটার রাস্তার দুটি জায়গা চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বারোকোণা এবং অর্জুন মোড়। আর এই বারোকোণাতেই রাস্তায় এত গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে যে, সেই গর্তে হাঁস সাঁতার কাটছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। ইতিমধ্যেই ছোটখাটো বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যে কোনও সময় বড়োসড়ো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এর আগে রাস্তা মেরামতের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা দুইবার পথ অবরোধ করেছিলেন। কিন্তু আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। যদিও তাঁদের বক্তব্য, ওখানে থাকা একটি কালভার্ট সংস্কার করে জল নিকাশের ব্যবস্থা করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই কাজটুকুই করে উঠতে পারেনি পূর্তদপ্তর।

গাজোলের আলমপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে শুরু হয়ে একলাখী পর্যন্ত চলে গিয়েছে প্রায় ৯ কিলোমিটার লম্বা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। একলাখী থেকে আবার সেই সড়ক গিয়ে যুক্ত হয়েছে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কে। বৈরগাছি ১ এবং ২, পাণ্ডুয়া, গাজোল-২ প্রভৃতি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই সড়কের উপর নির্ভরশীল। এই রুটে যাত্রী পরিষেবা দেয় টোটো, অটো এবং ম্যাজিক ভ্যান। এছাড়াও সারাদিনে ওই রাস্তা দিয়ে কয়েক হাজার মোটরবাইক, পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু প্রায় মাস তিনেক ধরে এই রাস্তার বেশ কিছু জায়গার হাল খারাপ হয়ে পড়েছে। সবথেকে বেশি খারাপ অবস্থা বারোকোণা এলাকার রাস্তার। এখানে বেশ কয়েকটি জায়গায় দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত গর্ত তৈরি হয়েছে। সেই গর্তে জমা হয়েছে বর্ষার জল। রাস্তাটির ভাঙা অংশ পার হতে স্বাভাবিকভাবেই কালঘাম ছুটছে বিভিন্ন গাড়ির চালকদের। স্থানীয় বাসিন্দা সুরজিৎ মণ্ডল জানান, প্রায় মাস তিনেক ধরে মূলত জল নিকাশের সমস্যার জন্যই এখানকার রাস্তার হাল বেহাল হয়ে পড়েছে। জল নিকাশের জন্য এখানে একটি কালভার্ট থাকলেও কেউ বা কারা সেটি বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। দুইবার পথ অবরোধ করেও কোনও লাভ হয়নি। প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে প্রচুর গাড়ি চলাচল করে। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ততই যেন আরও খারাপ হচ্ছে রাস্তার হাল। অবিলম্বে এই রাস্তা মেরামত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।

আরেক বাসিন্দা নয়ন মণ্ডল জানান, শুধু বারোকোণা নয়, অর্জুন মোড়ের রাস্তারও একই অবস্থা। সেখানেও রাস্তার বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। নিত্যদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু করা হোক। এপ্রসঙ্গে গাজোল পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কৃষ্ণ সিংহ জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য ওই রাস্তার বেশ কিছু অংশ খারাপ হয়েছে। তার মধ্যে বারোকোণা এবং অর্জুন মোড়ের রাস্তা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তবে ছোট জায়গাগুলো মেরামতের জন্য পূর্তদপ্তর কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু আবার বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। বর্ষার মরসুম শেষ হলেই আবার রাস্তা মেরামতের কাজে হাত দেওয়া হবে।

- Advertisement -