করোনা সংক্রমণের জের, দুর্গা পুজোয় প্রতিমার পরিবর্তে ঘট পুজো হবে আসানসোলে

357

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনা সংক্রমণের জেরে এ বছর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল আসানসোল গ্রাম দূর্গাপুজো কমিটি। আসানসোল গ্রামের ঐতিহ্যশালী ও সাবেকিয়ানা ধরে রাখা ৮ টি দুর্গা পুজো এবছর প্রতিমার পরিবর্তে ঘট পুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করোনা আবহে ভিড় এই সিদ্ধান্ত। এমনকি এবার পশু বলিও বন্ধ রাখা হবে বলে কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রায় ৩০০ বছর আগে আসানসোলের প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন নকড়ি রায় ও রামকৃষ্ণ রায়। বর্গীদের হাত থেকে রাঢ়বাংলাকে রক্ষা করেছিলেন পঞ্চকোট রাজার এই দুই বীর সেনানী। আগের সেই জায়গা এখন আসানসোল গ্রাম। সেই রায় পরিবারের বর্তমান সদস্য সংখ্যা কমবেশি হাজার দশক। আসানসোল গ্রাম ছাড়াও আশপাশের এলাকায় তাদের বাস। ২৮৭ বছর আগে দুর্গা পুজো শুরু করেছিলেন সেই রামকৃষ্ণ-নকড়ি রায়। পরে পরিবার বড় হওয়ায় এখন আসানসোল গ্রামে ৮ টি দুর্গাপুজো হয়। সেগুলো বড় দুর্গা, মেজ দুর্গা, ছোট দুর্গা নানা নামে প্রচলিত আছে। শুধু গ্রাম, আসানসোল শহর নয়, শিল্পাঞ্চল সহ অনেক জায়গা থেকে বহু মানুষ সেই পুজো দেখতে আসেন। পুরনো ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানা এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এবার তাতে ছেদ পড়তে চলেছে। করোনা সংক্রমণের জন্য আগেই আসানসোল গ্রামের গাজন উৎসবে কোপ পড়েছিলো। এবার কোপ পড়ল দুর্গা পুজোয়।

- Advertisement -

কমিটির সভাপতি শচীন রায় বলেন, ৮ টি পুজোর নবপত্রিকা আনা ও বিসর্জন একসঙ্গে হয় রামসায়ের পুকুরে। বহু মানুষের তাতে ভিড় হয়। বলি ও পুজোগুলির ভোগ খেতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। তাই করোনা থেকে নিজেদের বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচাতে আমরা সর্বসম্মতিক্রমে রীতি ও নিয়মে পরিবর্তন আনতে চলেছি। একমাত্র প্রতিমা পুজো ও পশুবলি বন্ধ হলে সেই ভিড় এড়ান সম্ভব হবে। এইসব পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আসানসোল গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গ্রামের পুজোগুলিতে প্রতিযোগিতা হয়। আমরা ঠিক করেছি এই প্রতিযোগিতা এবার বন্ধ রাখবো। মন খারাপ হলেও, কিছু করার নেই। করোনার জন্য যা পরিস্থিতি, তাতে এইভাবেই পুজো করতে হবে। আরও জানা গেছে, শুধুমাত্র দুর্গাপুজো নয়, গ্রামের ৪টি মনসা পুজোতেও এবার প্রতিমা হবে না। শুধুমাত্র রীতি মেনে সেই পুজো হবে।