আর্থিক দুর্দশার কারণে দুর্গোৎসব শুরু হয়নি সীমান্তের গ্রামে

179

মেখলিগঞ্জ: হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, তারপরেই বাঙালিদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গোৎসব। কিন্তু এনিয়ে এখনো তেমন কোনো উৎসাহ দেখা দেয়নি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে। যদিও শহরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পুজোর উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে সাধারণত ষষ্ঠীর দিন থেকেই আনুষ্ঠানিক দুর্গোৎসবের সূচনা হয়।

সীমান্তের বাসিন্দাদের অনেকেই অবশ্য জানিয়েছেন, এখানেও দুর্গাপুজোর প্রভাব পড়তে শুরু করে পুজোর বেশ কয়েকদিন আগে। এবার পরিস্থিতি একটু অন্য রকম। করোনা পরিস্থিতির কারণে আর্থিক দিক দিয়ে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় অনেক মানুষ। কাজ হারিয়েছেন অনেকেউ। করোনার কারণে কয়েকমাস আগেই ভিন রাজ্যে কাজ ফেলে বাড়ি চলে এসেছেন অনেকে। তাদের অনেকেই আজ কর্মহীন। অথচ প্রতিবছর পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে মেখলিগঞ্জ ব্লকের পরিযায়ী শ্রমিকরা।  তারা অবশ্য ভিনরাজ্যে কাজ করে আয় করা কিছু অর্থ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। যা খরচ করে পরিজনদের নতুন পোশাক কিনতেন। বিভিন্ন কেনাকাটাসহ পুজোর আনন্দ উপভোগ করেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে সেসব মাটি! দীর্ঘ কয়েকমাস বাড়িতে কর্মহীন অবস্থায় বসে থাকায় অনেকের চিন্তা বাড়ছে। পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার চাষের কাজেও ক্ষতি হয়েছে। বাবলু বর্মন, তাপস রায়দের মত অনেকেই বলেন, করোনার কারণে এবার তাদের মত অনেকেরই অবস্থা শোচনীয় হয়ে গেছে। হাতে পয়সা কড়ি নেই। এই অবস্থায় মন ভালো নেই। স্বাভাবিকভাবেই পুজো নিয়ে তাদের মত অনেকের মনেই তেমন উৎসাহ নেই।

- Advertisement -

জানাগিয়েছে, মেখলিগঞ্জ ব্লকের আটটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় ছোট বড় মিলিয়ে ৬০ থেকে ৭০ টি  দুর্গাপুজো হয়। এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের আনন্দও এই চাষাবাদের উপর অনেকটাই নির্ভর করে। গ্রামের অনেকেই জানান, এবারের আবহাওয়া ধান চাষের পক্ষে অনেকটা প্রতিকূল ছিল। ধান এখানকার কৃষকদের একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। এর মাধ্যমে অনেকেই সারা বছরের ঘরের  ভাতের যোগান পেয়ে থাকেন। স্বাভাবিক ভাবেই এই চাষের কাজে বাঁধা সৃষ্টি হওয়ায় চিন্তা বেড়েছে। অতিবৃষ্টিতে সবজি চাষের কাজেও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সব মিলিয়ে পুজো নিয়ে এখনও তেমন উৎসাহ চোখে পড়ছে না সীমান্ত পাড়ের বিভিন্ন মানুষের মধ্যে।