রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল দশা, পর্যটক নেই খোল্টা টুরিজম পার্কে

234

বিধান সিংহ রায়, পুণ্ডিবাড়ি : প্রায় দেড় দশক আগে কোচবিহার-২ ব্লকের খোল্টাতে রাজ্য সড়কের পাশে তৈরি হয়েছিল খোল্টা ইকো টুরিজম পার্ক। কয়েক বছরের মধ্যেই সেটি কোচবিহার তথা উত্তরের পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিলেও বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। সেখানে গেলেই নানা প্রজাতির পাখি, ময়ূর, কুমির, ঘড়িয়াল ছাড়াও কয়েক প্রজাতির হরিণ দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে দুচারটি সম্বর ছাড়া আর কিছুই নেই সেখানে। তাছাড়া ছোটদের বিনোদনের জন্য দোলনা, স্লিপার সহ নানারকম খেলার সরঞ্জাম, টয়ট্রেন, ঝুলন্ত সেতু থাকলেও সবকিছুই এখন ভাঙাচোরা ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পার্কটির ভিতর দিয়ে বয়ে চলা আলাইকুমারী নদী সংস্কার করে বোটিং চালু করা হয়েছিল সেসময়। বর্তমানে সেই নদীটি কচুরিপানায় ভরে গিয়েছে।

পার্কের কর্মীরা জানান, একসময় সারা বছরজুড়ে কোচবিহার, আলিপুরদুযার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও বহু পর্যটক আসতেন। বিশেষ করে শীতের মরশুমে ভিড় বাড়ত। বছরের বিশেষ বিশেষ দিনে বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়াদের ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হত সেখানে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনওরকম সংস্কার না হওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন পর্যটক সহ সকলেই। অশোক রায় নামে স্থানীয় এক দোকানদার জানান, একসময় খুব ভালো বেচাকেনা হত, কিন্তু পর্যটক না আসায় এখন আর তেমন ব্যবসা হয় না।

- Advertisement -

স্থানীয় তাপস রায়, মিন্টু রায় প্রমুখ জানিয়েছেন, বছর ১৫ বছর আগে খোল্টাতে তৈরি হয়েছিল এই পার্কটি। প্রথমদিকে সেটির ঠিকঠাক রক্ষণাবেক্ষণ হলেও বর্তমানে বেশ কয়ে বছর ধরে কোনওরকম সংস্কার হয় না। এখন ওই পার্ক সমাজ বিরোধীদের আখড়া। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রমরমিয়ে মদ, জুয়ার আসর সহ নানা অসামাজিক কাজকর্ম চলে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনেরও নেই কোনও হেলদোল। এ বিষয়ে কোচবিহারের পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ন্যাস গ্রুপের সম্পাদক অরূপ গুহ বলেন, এই পার্ক আবার নতুন করে সাজিয়ে চালু করা হোক। এই পার্কের মাধ্যমে বন দপ্তর ভালো আয় করত। তাহলে এই পার্ক চালু করতে বাধা কোথায়?

প্রাক্তন বনমন্ত্রী তথা বর্তমানে সিপিএমের জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, বামফ্রন্টের সময়ে এই পার্ক গড়ে উঠেছিল। মানুষ সেখানে গিয়ে আনন্দ উপভোগ করতেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে এটি শ্মশানে পরিণত হয়েছে এবং সমাজবিরোধীদের আখড়া হয়ে উঠেছে। খোল্টা ইকো টুরিজম পার্ক ছাড়াও রসিকবিল, রসমতির মতো বেশ কিছু পর্যটনকেন্দ্র আজ শ্মশানে পরিণত হয়েছে। এগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করে আকর্ষণীয় করে তুলতে কোনও উদ্যোগ নেই এই সরকারের। অন্যদিকে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি ঠিক জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখব।