করোনার প্রকোপে একাধিক মেলা বন্ধ থাকায় যাত্রাপালা হচ্ছে না

246

শালকুমারহাট: এ যেন ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত অবস্থা। করোনার কোপে এবার একাধিক ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে পুরোনো ঐতিহ্য মেনে শালকুমারহাটের কার্জিবাড়ির কালীপুজোর পর দু’দিনের বিষহরি গানের আসর বসেছে। কিন্তু মেলা না হওয়ায় এবার হচ্ছে না যাত্রাপালা। যাত্রাপ্রেমীদের এজন্য মন খারাপ। তাই যাত্রাপালার বদলে শালকুমারহাটে বিষহরি গানের আসরে দলে দলে ছুটে আসছেন বাসিন্দারা। কিন্তু আরও অনেক জায়গায় মেলা বন্ধ থাকায় সেটাও হচ্ছে না। যাত্রাপ্রেমীদের কথায়, এবারই প্রথম এমন হল যে, কোথাও আর যাত্রাপালা শোনা যাচ্ছে না।

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুর্গাপুজোর থেকেও মেলাতে বেশি আনন্দ পান হাজার হাজার মানুষ। দুর্গাপুজোর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক গ্রামীণ মেলা শুরু হয়। শুরুটা হয় ভান্ডানি মেলা দিয়ে। শেষ হয় মেজবিলের রাসমেলায়। আর এইসব মেলার পুরোনো ঐতিহ্য হল যাত্রাপালা। গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ বিশেষ করে মাঝবয়সী, প্রবীণ পুরুষ ও মহিলাদের কাছে যাত্রাপালা হল মেলার আকর্ষণের মূল কেন্দ্র। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় শালকুমারহাটের কলাবাড়িয়া ও প্রধানপাড়ায় ভান্ডানি দেবীর পুজো হলেও মেলা হয়নি। এরপর সিরুবাড়ি গ্রামের লক্ষ্মীমেলাও বাতিল করা হয়। এই এলাকায় সব থেকে পুরোনো মেলা হয় শালকুমারহাটে। এখানকার কার্জি পরিবারের শতবর্ষের কালীপুজো এখন সর্বজনীন রুপ নিয়েছে। এই কালীবাড়িতে ন’দিনের মেলা হত। এবার তা হচ্ছে না। আবার এই মেলার পরেই শিলবাড়ি-ঘাটপাড় এলাকাতেও ৪-৫ দিনের কালীমেলা হত। শিলতোর্ষা নদীর ধারে আয়োজিত এই মেলাতেও হাজার হাজার দর্শক আসতেন। কিন্তু উদ্যোক্তারা এবার মেলা বাতিল ঘোষনা করেছেন। সব শেষে শীতের পরিবেশে দশ দিনের রাসমেলা হয় মেজবিলে। সেখানেও এবার মেলা হবে না বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

- Advertisement -

এইসব মেলা মাঠের মাঝে যাত্রাপালার জন্যই বিশাল মঞ্চ তৈরি হত। যাত্রাপালার প্রতি টান থাকায় এইসব মেলায় রাত যত বাড়ে ভিড়ও ততই হত। ভোর রাত পর্যন্ত যাত্রাপালা শুনে সকালে বাড়ি যেতেন দর্শকরা। মেলার উদ্যোক্তারা অনেক টাকা দিয়ে হলেও কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গের যাত্রা সংস্থাগুলিকে নিয়ে আসতেন। এখনও যে যাত্রাপালার কদর কতটা, তা বুঝিয়ে দিতেন এলাকার বাসিন্দারা। তবে এবারের পরিস্থিতি অন্যরকম। মেলা না হওয়ায় যাত্রাপালাও হচ্ছে না। শালকুমারহাটের বাসিন্দা পরিতোষ রায় বলেন, ‘যাত্রাপালা না হওয়ায় মন খারাপ। এই শীতের পরিবেশে যাত্রাপালার গুরুত্বটাই আলাদা। এবারই প্রথম এইসব এলাকায় মেলা না হওয়ায় যাত্রাপালা হচ্ছে না।’ তবে স্থানীয়দের কিছুটা ইচ্ছে পূরণ করছে কার্জি পরিবারের কালীপুজো কমিটি। কমিটির সম্পাদক গণপতি নার্জিনারি বলেন, ‘মেলা বাতিল হওয়ায় যাত্রাপালা হচ্ছে না। কিন্তু পুরোনো প্রথা মেনে দু’দিনের বিষহরি গানের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষই ওই গানের আসরে আসছেন।’