ভবন বিপদজনক হয়ে পড়ায় পূর্ব বর্ধমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা

195

বর্ধমান ১৪ ফেব্রুয়ারিঃ ভবন বিপজ্জনক হয়ে পড়ার কারণে পঠন পাঠনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার ইস্টার্ণ রেলওয়ে অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। খুদে পড়ুয়ারা এখন আর  ক্লসরুমে ক্লাস করতে পারছেনা। বাধ্য হয়ে ভবনের বারান্দায় বসে কোনওভাবে সারতে হচ্ছে পঠন পাঠন। স্কুল কর্তৃপক্ষও চাইছেন  প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে দ্রুত হোক সমস্যার সমাধান।
কাটোয়া শহরে বর্ধমান-কাটোয়া রোডের পাশে রয়েছে পূর্ব রেলের একটি বড় ভবন। ১৯৭২ সাল থেকে সেখানেই চলছে কাটোয়া পশ্চিম চক্রের আধীন ইস্টার্ণ রেলওয়ে অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১০ জন ছাত্র ছাত্রী পড়াশুনা করে। শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন ৫ জন। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিপজ্জনক ঘোষনা করে গত বৃহস্পতিবার রেল দফতর ভবনটি সিল করে দেয়। তার জেরে চরম বিপাকে পড়ে যায় খুদে পড়ুয়ারা। ভবনের বারান্দাতে তাদের বসিয়ে ক্লাস করাতে বাধ্য হন শিক্ষক শিক্ষিকারা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মিতা বিশ্বাস বলেন, ‘সিল করে দেওয়া বিদ্যালয়  ভবন এখন পাহারা দিচ্ছে আরপিএফ । বাধ্য হয়ে ভবনের বারান্দাতে বসেই এদিন পঠন পাঠন চালাতে হচ্ছে’। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের দুরাবস্থায় পড়া  প্রসঙ্গে কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়  বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্ত না নেবার জন্য রেল দফতরকে চিঠি দিয়ে তিনি সময় চেয়েছিলেন। কারণ ওই স্কুলের জন্য ৫ শতক জায়গা পুরসভার পক্ষ থেকে কেনা হয়ে গেছে। সেই জায়গাতে নতুন স্কুল ভবন গড়তে একটু সময় লাগবে। খুদে পড়ুয়াদের স্বার্থে সেই সময়টুকুও রেল দফতর যাতে দেয় তার জন্য এদিন ফের আবেদন জানানো হয়েছে’। রেলের কাটোয়া স্টেশন ম্যানেজার অরুপ সরকার বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রেলদপ্তর আগেই স্কুল ছাড়তে বলেছিল। তার কারণ স্কুল ভবনের ভিতরে দেওয়াল ও ছাদে বড় বড় বটগাছ গজিয়ে গেছে। সেইসব গাছের শিকড় বিস্তার করায় বিদ্যালয়ের  ছাদের অবস্থা খারাপ  হয়ে গিয়েছে। যেকোনো সময় বড়সড় দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সেই আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার  ডিভিশনাল অথরিটির নির্দেশে স্কুলের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে সিল করে দেওয়া হয়’।

 

- Advertisement -