ওয়েবসাইট বিভ্রাটের জের, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সাইবার ক্যাফেতে উপচে পড়ল ভিড়

1312

নিশিগঞ্জ: সাইবার ক্যাফের সামনে সকাল থেকে উদ্বিগ্ন পড়ুয়াদের ভিড়ে শিকেয় সামাজিক দূরত্ব। করোনা আবহে স্নাতক স্তরের পরীক্ষা ঘিরে করোনা সংক্রামণের দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা। ফলে করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ করে অনলাইনে পরীক্ষার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল।

বৃহস্পতিবার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজ গুলিতে অনলাইনে পরীক্ষা শুরু হয়। অনলাইনে প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা ছিল সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে স্মার্ট ফোনে ওয়েবসাইট না খোলায় পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়েন। কেউ কেউ প্রশ্নপত্র হাতে পেলেও উত্তরপত্র জমা করতে না পেরে জেলার বিভিন্ন স্থানের মত নিশিগঞ্জেও বিভিন্ন সাইবার ক্যাফের সামনে ভিড় জমান পড়ুয়ারা। হঠাৎ করে পড়ুয়াদের ভিড় উপচে পড়ে বিভিন্ন সাইবার ক্যাফের সামনে। উদ্বিগ্ন পড়ুয়া ও অভিভাবকদের ভিড়ে লঙ্ঘিত হয় সামাজিক বা শারীরীক দূরত্ব।

- Advertisement -

এক অভিভাবকের অভিযোগ, করোনা সংক্রামণ ঠেকাতে বাড়িতে বসে অনলাইন পরীক্ষার কথা শুনে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু গ্রামে ইন্টারনেটের অবস্থা খুব খারাপ। ফলে ভিড়ে ঠাসাঠাসি করেই সাইবার ক্যাফের সামনে মেয়েকে নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে উত্তরপত্র আপলোড করতে। নিশিগঞ্জ কলেজের পড়ুয়া গৌরি বর্মন বলেন, গ্রামের দিকে বাড়ি। নিশিগঞ্জ কলেজে অনার্স নিয়ে পড়ি। বাড়িতে অনেক চেষ্টা করেও মোবাইলে ওয়েবসাইট খোলেনি। তাই সাইবার ক্যাফের সামনে অপেক্ষা করছি। তাড়াহুড়োয় মাস্কও বাড়িতে ফেলে এসেছি।

মাথাভাঙ্গা কলেজের পড়ুয়া লিটন দে বলেন, ওয়েবসাইট না খোলায় করোনা আবহে ভিড়ের মধ্যেই সাইবার ক্যাফের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন উত্তরপত্র আপলোড করতে পারব জানিনা। অপর এক ছাত্রী জানান, আজকের মতো পরবর্তী পরীক্ষার দিনে যাতে সমস্যা না হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তার ব্যবস্থা করা হোক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা বাড়িতে বসে পরীক্ষা দিতে পারি ওয়েবসাইট সে রকম ভাবে ঠিক করুক।

এদিকে এক সাইবার ক্যাফের মালিক জানান, পরীক্ষার জন্য একসঙ্গে অনেক পড়ুয়ার ভিড় হয়েছে। সকলের জন্য মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় পড়ুয়াদের উত্তরপত্র স্ক্যান করে রেখে দিচ্ছি। সার্ভার বা নেটওয়ার্ক সমস্যা মিটলে উত্তরপত্র আপলোড করা হবে। নিশিগঞ্জ মধুসূদন হোড় মহাবিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানান, পড়ুয়ারা যাতে সমস্যায় না পড়ে তার জন্য কলেজের শিক্ষকরা সকাল থেকেই বাইক নিয়ে পড়ুয়াদের কাছে ও সাইবার ক্যাফে গুলোতে ছোটাছুটি করছে।