স্পিডব্রেকার রং করে দুর্ঘটনা রুখতে চান দুলাল

225

শিলিগুড়ি : রাস্তার গর্তের কারণে ছেলেকে হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা যাতে অন্যের জীবনে না ঘটে, সেজন্য মুম্বইয়ের বাসিন্দা দাদারাও বিলহোড়ের লড়াইয়ে কাহিনী সবারই জানা। ছেলের মৃত্যুর কারণ যাতে অন্য কারও কোল খালি হওয়ার কারণ না হয় তার জন্য তিনি মুম্বইয়ে রাস্তায় গর্ত দেখলেই তা বোজাতে নেমে পড়েন। প্রায় ৬০০-র বেশি গর্ত বুজিয়ে তিনি সেই লড়াইয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে মুম্বই থেকে ২,৩০২ কিলোমিটার দূরে দুলাল ছেত্রীর লড়াইটাও এক। পথ দুর্ঘটনায় তিনি বাঁ চোখ হারিয়েছেন। তাঁর মতন আর কেউ যাতে এভাবে দুর্ঘটনায় না পড়েন, সেই চেষ্টায় তিনি নিজের এলাকার স্পিডব্রেকারগুলি চলাচলকারীদের চোখে পড়ার জন্য রং লাগিয়ে চলেছেন। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শহরের প্রতিটি রাস্তায় একাধিক স্পিডব্রেকার থাকলেও তাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও রং নেই। কোথাও বা একসময়ে তা লাগানো হলেও এখন উঠে গিয়েছে। তাই একাধিক জায়গায় এই স্পিডব্রেকারই হয়ে উঠেছে চোট-আঘাতের কারণ। রং না থাকায় স্পিডব্রেকারগুলির জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়েন মানুষ।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিবেদিতা রোডের বাসিন্দা দুলাল ছেত্রী। বাড়ির নীচেই রয়েছে দোকান। ব্যস্ত রাস্তায় বেলাগাম ড্রাইভিং এড়াতে তৈরি করা বড় স্পিডব্রেকারকে কেন্দ্র করে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় ছোটবেলার স্মৃতি বারবার নতুন করে ফিরে এসেছে দুলালবাবুর মনে। ছোটবেলায় অসমে থাকাকালীন পথ দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পাওয়ায় কিছু করার ভাবনা আসে দুলালবাবুর মনে। এরপরেই স্পিডব্রেকারগুলি পথচারীদের নজরে আনার জন্য তাতে রং করার পরিকল্পনা নেন তিনি।

- Advertisement -

বুধবার নিবেদিতা রোডে স্পিডব্রেকার রং করার সময়ে দুলালবাবু বলেন, আমার মতন দুর্ঘটনায় যাতে কারও চোখ না নষ্ট হয়, সে আশঙ্কাটাই সব সময়ে মনে ভেসে ওঠে। অন্তত নিজের এলাকার স্পিডব্রেকারকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করছি। সেই ভাবনা থেকেই আমার পথে নামা। তবে শুধু নিজের এলাকার গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে চাইছেন না দুলালবাবু। সাধারণ ব্যবসা করে দিনগুজরান করা এই মানুষটি বলেন, আমার এলাকায় এত মানুষ স্পিডব্রেকার ঠিকমতো দেখতে না পেরে আহত হন। জানি না সারা শহরে কত মানুষ আহত হচ্ছেন। প্রশাসন অনুমতি দিলে আমি সাহায্যে প্রস্তুত। দুলালের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ  জানান, তাঁর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর স্নিগ্ধা হাজরা। তিনি বলেন, দুলালবাবুর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আসলে মানুষ তো মানুষের জন্যই।