সাজাহান আলি, পতিরাম : পতিরাম তালতলা মোড় বাসস্ট্যান্ডের সামান্য দূরে আত্রেয়ী সেতুতে ওঠার মুখে আবর্জনার পাহাড় জমে উঠেছে। ৫১২ নম্বর গাজোল-হিলি জাতীয় সড়কের ওপর এমন আবর্জনার স্তূপে চরম অস্বাস্থ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি এই বর্জ্য পদার্থ তথা আবর্জনা আত্রেয়ী নদীতে পড়ার ফলে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে নদী ও এলাকার সুন্দর পরিবেশ। এমন প্রকাশ্য স্থানে একেবারে জাতীয় সড়ক ও নদীর পাশে জনবহুল জায়গায় আবর্জনার স্তূপ তৈরি হওযায় এলাকার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। তাঁরা অবিলম্বে পতিরাম আত্রেয়ী সেতুর মুখ থেকে অন্যত্র আবর্জনা সরিয়ে ফেলার দাবি তুলেছেন। যদিও প্রশাসন এবিষয়ে নির্বিকার হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পতিরাম আত্রেয়ী সেতুর মুখে দীর্ঘদিন ধরে জঞ্জাল ও আবর্জনা ফেলে পরিবেশ ও নদীকে দূষিত করে চলেছেন কিছু ব্যবসায়ী ও অসচেতন মানুষ। প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ থেকে শুরু করে, বিয়ে ও অনুষ্ঠান বাড়ির খাবারের এঁটো থালাবাসন সহ বাড়ির পচা শাকসবজি ফেলা হচ্ছে সেতুর মুখেই। দীর্ঘদিন ধরে সাফাই না হওয়ার কারণে সেই আবর্জনা পচে গিয়ে সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়াও এই নোংরা আত্রেযী নদীতে মেশার কারণে নদীর জল দূষিত হচ্ছে। পতিরাম তালতলা মোড় বাসস্ট্যান্ডের পাশে আত্রেয়ী সেতুর মুখে এমন আবর্জনার পাহাড় জমে ওঠায় পতিরাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন ভীষণ ক্ষুব্ধ। তাঁরা এই জঞ্জাল জনবসতিহীন ও নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন। পার পতিরাম ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সাগকুমার সরকার বলেন, জাতীয় সড়কের পাশে এমন জনবহুল জায়গায় আবর্জনা ফেলতে দেওয়া কখনোই উচিত নয়। গ্রাম পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত। কারণ এই জায়গায় জঞ্জাল ফেলার ফলে শুধুমাত্র পরিবেশ নয়, নদীও দূষিত হয়ে পড়ছে। আগামীতে এর ফল মারাত্মক হতে পারে। আমরা ব্যবসায়ী সমিতির তরফে মিটিং ডেকে ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন করব, যাতে তাঁরা প্রকাশ্য স্থানে আবর্জনা না ফেলেন।

পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতে পতিরাম নাগরিক ও যুবসমাজের তরফে দাবিপত্র উপপ্রধানের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংস্থার অন্যতম সদস্য অনিমেষ সরকার সহ অন্যরা। অনিমেষবাবু বলেন, এই কাজে প্রশাসন চাইলে আমরা স্বেচ্ছাশ্রম দিতে রাজি। পার পতিরামের বাসিন্দা তথা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক রিপন সাহা বলেন, পরিবেশ ও নদীকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত। নইলে আমাদের সবাইকে এর কুফল ভোগ করতে হবে। বালুরঘাটের পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক তুহিনশুভ্র মণ্ডল বলেন, যেকোনো মূল্যে আত্রেযী নদী ও পতিরামের পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিতে অনুরোধ জানিয়েছি। যত দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ করবে ততই মঙ্গল।

পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আশুতোষ দাস বলেন, মানুষ যাতে আর এই স্থানে আবর্জনা না ফেলেন, তার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে জাতীয় সড়কের ঠিক পাশে একটা বোর্ড লাগানো হয়েছে। কিন্তু তারপরেও অনেকে আবর্জনা ফেলছেন। আমরা সেগুলি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভাবছি। নতুন কোথাও নোংরা ফেলা যায় কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এই ধরনের কাজ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি আমরা জেলাশাসককে জানিয়েছি।