প্রকাশ মিশ্র, মালদা : দূষণমুক্ত শহর গড়ার পরিবর্তে শহরের বুকেই তৈরি হয়েছে মিনি ভাগাড়। সেখানে জল জমে ব্যাপক দূষণ ছড়াচ্ছে। আবর্জনার সঙ্গে জমা জল মিশে নরককুণ্ড দশা হয়েছে। মশার আঁতুড়ে পরিণত হয়েছে এলাকা। খোদ পুরসভার উদ্যোগেই ফুড পার্ক ও ডিভিশনাল কমিশনারের অফিস সংলগ্ন মাধবনগর রাস্তার ধারে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। যার জেরে শোচনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মিনি ভাগাড় সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ইংরেজবাজারের উপপুরপ্রধান দুলাল সরকার।

গৌড় রোড ধরে মকদমপুর ফুড পার্কের দিকে যেতে বাম হাতে প্রশস্ত রাস্তা মাধবনগর কৃষি ফার্মের দিকে চলে গিয়েছে। সেখানেই ইংরেজবাজার পুরসভার পার্কিং জোন ও অফিসের অন্য সম্প্রসারিত অংশ তৈরি হচ্ছে। তার পাশেই বিস্তীর্ণ নীচু জায়গা রয়েছে। পুরসভার উদ্যোগে আপাতত এটি এখন মিনি ভাগাড় হয়ে গিয়েছে। শহরের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো সাম্প্রতিক বৃষ্টির জল জমে পচন ধরছে আবর্জনা এবং বর্জ্য পদার্থে। ফলে ভীষণ মাত্রায় দূষণ ছড়াচ্ছে। রাস্তা দিয়ে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে গিয়েছে। কাছেই ডিভিশনাল কমিশনার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরের অফিস। তাদেরও টেকা দায়। এই দুই দপ্তর থেকে দফায় দফায় এব্যাপারে পুরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে ডিভিশনাল কমিশনার অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে।  ওই অফিসের কর্মীদের বক্তব্য, মিনি ভাগাড়ের আবর্জনা  জমা জলে মিশে পচে যাওয়ার কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। অফিসে কাজ করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরসভাকে বারবার জানিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না। তার ওপর রাস্তাজুড়ে আবর্জনা ফেলার গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে থাকছে। সেগুলো থেকেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

- Advertisement -

নিত্যদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন মাধবনগরের সবজি বিক্রেতা হরিপদ মণ্ডল। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রিত বাজারে পাইকারি সবজি কিনতে হলে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। মাস ছয়েক ধরে এখানে গাড়ি গাড়ি আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। সেগুলি জলে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একেই তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিছনের দিকের রাস্তা দুর্গন্ধময়। চলাচলের অযোগ্যও হয়ে পড়েছে। পুরসভা তার দায় এড়াতে পারে না। প্রাতর্ভ্রমণে এখান দিয়ে যাতায়াত করেন গৌড় রোডের বাসিন্দা গৃহবধূ আরতি সাহা। তাঁর বক্তব্য, পুরসভা এলাকায় আছি বলে মনেই হচ্ছে না। এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলে দুর্গন্ধে বমি পেয়ে যাচ্ছে। বিশুদ্ধ অক্সিজেনের বদলে পচা আবর্জনার জীবাণু শরীরে ঢুকছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।  এই রাস্তা প্রচুর লোক ব্যবহার করেন। প্রাতর্ভ্রমণেও এই রাস্তা অনেকে ব্যবহার করেন। সম্প্রতি পুরসভা এখানে ভাগাড় তৈরি করে ফেলেছে। এটা এখন মশা উৎপাদনের কারখানা হয়ে গিয়েছে। অনেকে আবার গৃহপালিত পশুর মৃতদেহও এখানে ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব নিয়ে কোনো হেলদোল নেই পুরসভার।

মালদা জেলা সংশোধনাগারের কর্মী উৎপল গোস্বামী কর্মসূত্রে মালদা শহরে থাকনে। তিনি বলেন, মাধবনগর সংযোগকারী রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যায়াতায়াত করি। কিন্তু রাস্তার পাশে যেভাবে ভাগাড় তৈরি হয়েছে ও দূষণ ছড়াচ্ছে, তাতে জেলা সদর সম্পর্কে ধারণাটাই খারাপ হয়ে য়াচ্ছে। খোদ পুরসভার উদ্যোগে এই ধরনের দূষণ ছড়ানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। এটা ভাবতেই অবাক লাগছে। ইংরেজবাজারের উপপুরপ্রধান দুলাল সরকার পরিস্থিতির কথা  মেনে নিয়েছেন। তবে ওখানে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বলে তিনি মানতে চাননি। তিনি বলেন, পুজোর সময় কিছু অসুবিধে থাকায় জেলাশাসকের নির্দেশে ওই জায়গায় আবর্জনা ফেলা হচ্ছিল। বৃষ্টির জল জমে আবর্জনায় পচন ধরেছে। আগামীদিনে সেখানে আর আবর্জনা ফেলা হবে না। মহদিপুরে আগে যেখানে আবর্জনা ফেলা হত, সেখানেই আবার আবর্জনা ফেলা হবে। নীচু জায়গায় জল জমে যাতে দূষণ না ছড়ায়, তাই সেখানে মাটি ভরে দেওয়া হবে।