কৌস্তুভ দেসরকার, করণদিঘি : উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি ব্লকের উপর দিয়ে যাওয়া ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের দুই পাশ কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। জাতীয় সড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়ে এলাকার আবর্জনা এখানে ফেলা হয়, গোদের উপর বিষফোড়ার মতো জাতীয় সড়কের ধারে মৃত জীবজন্তুর দেহ ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। রাতের অন্ধকারে কারা গোরু, ছাগল, কুকুর, বেড়ালের মতো জীবজন্তুর মৃতদেহ ফেলে দিয়ে যায় জাতীয় সড়কের ধারে, তা জানা নেই প্রশাসনের। আবার অনেক সময় গাড়ির চাকায় পিষ্ট মৃত পশুর দেহ জাতীয় সড়কের ধারে ফেলে রাখায় সেগুলি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নিত্যযাত্রীরা নাকে রুমাল চাপা দিয়ে রাস্তা পারাপার করেন। ডালখোলা থেকে নাগর পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ কিমি রাস্তায় চলাচলের সময় এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে যারা এই রকম পশুদের মৃতদেহ রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে যায় তাদের বোঝা উচিত যে এতে সাধারণ মানুষের কত অসুবিধা হয়।

শুধু জীবজন্তুর পচা মৃতদেহ নয়, জাতীয় সড়কের ধারে জমিতে প্লাস্টিক সহ অন্যান্য আবর্জনা, ছোটো কারখানার বর্জ্য পদার্থ, জাতীয় সড়কের পাশের বাড়িঘরের বর্জ্য পদার্থ, খড়ের গাদা, রাস্তা সংলগ্ন দোকানগুলির ফেলে দেওয়া জিনিস, সবই জমা হচ্ছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জাতীয় সড়কের দুপাশে অবৈধ ভাগাড় তৈরি হয়েছে। জাতীয় সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার ছোটো-বড়ো গাড়ি যাতাযাত করে। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা আবর্জনায় দমবন্ধ অবস্থা হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। গাড়ি চালাতেও অসুবিধে হয়।

করণদিঘি থানার আইসি পরিমল সাহা বলেন, জনসাধারণের সচেতনতার অভাবের ফলেই এই সমস্যা হয়। আমাদের কানে এরকম কোনো খবর এলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি বা সরিয়ে নেওযার ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতকে জানাই। জীবজন্তুর মৃতদেহগুলি জাতীয় সড়কে পড়ে থাকে। সেগুলিকে সরানোর কাজ সবসময় পুলিশ করবে, এরকম তো কথা নয়। তাই, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলাকাবাসীকেও কাজ করতে হবে।

ওই এলাকার আলতাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পবন সিংহ বলেন, পঞ্চায়েতের নিজস্ব সাফাইকর্মী মূলত স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করেন। জাতীয় সড়কের মতো খোলা জায়গার আবর্জনা তাঁরা সাফাই করেন না। টুঙ্গিদিঘি হাটে কোনো ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে জীবজন্তু মারা গেলে তাদের দেহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সরানোর ব্যবস্থা করে থাকেন। সেই দেহগুলি মাটিতে পুঁতে দেওযা হয়।