শাড়ি ব্যবসার আড়াল থেকে নকল মদ তৈরির চক্র ফাঁস, গ্রেপ্তার কারবারি

455

বর্ধমান, ৩ সেপ্টেম্বরঃ ভাড়া বাড়িতে শাড়ি ব্যবসার আড়ালে চলছিল নকল মদ তৈরীর কারবার। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে পূর্ব বর্ধমানের কালনা শহরের যোগীপাড়ার একটি বাড়িতে হানা দিয়ে নকল মদ কারবারিকে গ্রেপ্তার করল আবগারি দপ্তর। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর নকল মদ ও মদ তৈরির উপকরণ। ধৃতের নাম হরেকৃষ্ণ দাস। সে কালনার যোগীপাড়ার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ধৃতকে কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করে হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। নকল মদ তৈরির কারবারে আরও কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতকে হেপাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।

আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাপড়ের ব্যবসা করার কথা বলে বছরখানেক আগে হরেকৃষ্ণ দাস কালনা শহরের যোগীপাড়ায় একটি বাড়ির দোতলায় ঘর ভাড়া নেয়। সেখানেই কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে তিনি নকল মদ তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়াও মিটিয়ে দিতেন হরেকৃষ্ণ। বাড়িওয়ালার সঙ্গে তার কোনও দিন অশান্তিও হয়নি। কাপড় ব্যবসার কথা বলে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে হরেকৃষ্ণ যে নকল মদ তৈরির কারবার ফেঁদেছে তা নাকি টেরও পাননি বাড়িওয়ালা। ওই বাড়ির মালিক চিত্রাদেবীর দাবি তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। যখন ওই ব্যক্তি আসতো বাড়ির ভিতর মালপত্র নিয়ে ঢুকতো তখন ব্যাগের উপরের দিক থেকে শাড়ি দেখা গিয়েছে প্রায় প্রতিবার। এইভাবে বাড়িওয়ালাকে কিছু বুঝতে না দিয়ে হরেকৃষ্ণ তার নকল মদ কারবারে রমরমা বৃদ্ধি ঘটায়। আবগারি দপ্তরের এক কর্তা বলেন, নকল মদ তেরির কারবার চালানোর অভিযোগে আগেও একবার ধরা পরে হরেকৃষ্ণ জেলে খেটেছে।

- Advertisement -

ফের হরেকৃষ্ণ নকল মদ তৈরির কারবার শুরু করেছে বলে সম্প্রতি আবগারি দপ্তরে খবর যায়। বুধবার গভীর রাতে ডেপুটি এক্সাইজ কালেক্টর অরুণ কুমার হাজরা ও কালনার আবগারি ওসি গোপীনাথ সিনহার নেতৃত্বে যোগীপাড়ার ভাড়া বাড়িতে অভিযান চলে।সেখান থেকল নকল দেশী ও বিদেশী মদ, মদ তৈরীর সরঞ্জাম, স্পিরিট, হলোগ্রাম ইত্যাদি উদ্ধার হয়েছে। কারবার চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় হরেকৃষ্ণ দাসকে। জেরায় ধৃত হরেকৃষ্ণ জানায়, কলকাতা থেকে নকল মদ তৈরির মালপত্র এনে সে ভাড়া বাড়িতে মদ তৈরি করত। তিনি ও তার লোকজন সেই নকল মদ কালনা সহ পার্শ্ববর্তী জেলা হুগলী, নদিয়া ও আরও অন্য জায়গায় সরবরাহ করত।

এই ঘটনার বিষয়ে ডেপুটি এক্সাইজ কালেক্টর অরুণ কুমার হাজরা বলেন, বুধবার রাতে ৩০০ বোতল নকল দেশী মদ,৫০ লিটার স্পিরিট, ১৮ লিটার বিদেশী মদের লিকুইড ভর্তি জার উদ্ধার হয়েছে । এছাড়াও ৩০০ হলোগ্রাম ও নকল মদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। এক্সাইজ কালেক্টর জানিয়েছেন, নকল মদ কারবারে আরও কারা যুক্ত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এধরণের কারবার কোনও ভাবেই চলতে দেওয়া হবে না।