খুদে শিল্পীর হাতেই প্রাণ পাচ্ছে দেবীমূর্তি

153

রায়গঞ্জ: মাত্র ১১ বছর বয়সে মাটির দুর্গা বানানোর কাজ হাতে নিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দেবীনগর কসবার বাসিন্দা অনীক মণ্ডল। দেবীনগর কৈলাসচন্দ্র রাধারাণী বিদ্যাপীঠের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অনীককে এই কাজে সহযোগিতা করছে ঠাকুমা সন্ধ্যা মণ্ডল ও ঠাকুরদা ব্রজেন মণ্ডল। তার তৈরি দুর্গা এবারে পুজো হবে পাড়ার মণ্ডপে।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি মাটির প্রতিমা তৈরি করাটা ছিল অনীকের নেশা। মাটির শিবলিঙ্গ তৈরি করে প্রথম হাতে খড়ি হয় তার। এরপর কাগজ কেটে, মাটি দিয়ে ছোট ছোট প্রতিমা তৈরি করতে থাকে অনীক। বাবা বিকাশ মণ্ডল এবং মা অঞ্জনা মণ্ডল ছেলের সৃষ্টিশীল কাজকে আগাগোড়াই উৎসাহ দিয়ে আসছেন। খুব ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে অনীক তার পাড়ার প্রতিমা শিল্পীদের প্রতিমা গড়তে দেখত। দেবীর মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ীতে রূপান্তর অবাক করত খুদে অনীককে। সেই থেকে প্রতিমা তৈরির নেশা চেপে বসে তার। খুদে শিল্পীর কাজ মনে ধরে বড়দেরও। এবছর বন্ধুরা তার কাছে দুর্গা প্রতিমা গড়ার আবদার জানায়। তাদের আবদার ফেলতে পারেনি অনীক। প্রতিমা তৈরির কাজে অনীক পাশে পায় তার ঠাকুরদা ও ঠাকুমাকে। পুজোর বেশি সময় হাতে না থাকায় দম ফেলার ফুরসত নেই অনীকের। পড়াশোনার ফাঁকেই চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ছেলের দাবি অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম মাটি, কাঠ, বাঁশের টুকরো, রং এনে দিয়েছেন তার বাবা ও ঠাকুরদা। খুদে অনীক জানায়, ‘কয়েক বছর পর বড় আকারে প্রতিমা বানিয়ে বাড়িতে পুজো করার ইচ্ছে আছে।’

- Advertisement -

অনীকের ঠাকুরদা ব্রজেন মন্ডল জানান, খুব ছোটো থেকেই সৃষ্টিশীল কাজ করার ইচ্ছে নাতির। তাই তার এই কাজকে উৎসাহ দিতে সবসময় পাশে থাকতে হয়। অনীকের বন্ধু প্রীতম, দীপক, কুনালদের বিশ্বাস, সময়ের সাথে আরও ভালো কাজ করবে অনীক। অনীকের মুন্সিয়ানা দেখে মুগ্ধ তার স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকারাও। তাদের কথায়, অনীক আগামীতে বড় শিল্পী হবে।