দোরগোড়ায় পুজো, তবুও বরাত নেই মৃৎশিল্পীদের

108

ফাঁসিদেওয়া: সারাবছর ধরে দুর্গাপুজোর জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকেন মৃৎশিল্পীরা। অবশেষে দোরগোড়ায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। আর হাতে মাত্র কয়েকটা দিন। তবুও করোনা পরিস্থিতির জন্য ফাঁসিদেওয়ার মৃৎশিল্পীদের মধ্যে বিষাদের সুর। সময় গড়াচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বায়না হয়নি একটিও দুর্গা প্রতিমার। প্রতিবছর এই সময়টায় কারিগরদের মধ্যে থাকে চরম ব্যস্ততা। তবে, সেই ব্যস্ততা এখন অমিল কুমোরটুলিতে। ফাঁসিদেওয়ার শুকদেব মালাকার প্রায় ৬ জন কারিগরকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১৫টি প্রতিমা তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। কোনও পুজো কমিটিই এখনও প্রতিমার বয়না দিতে না আসায় আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি। জানালেন, বছরভর ছোট ছোট মুর্তি গড়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে সংসার।

শুকদেবদের মতো অনেক মৃৎ শিল্পীর কাছেই কিন্তু, গতবছরের তুলনায় এবারের সময়টা আরও কঠিন। ভিন জেলা থেকে শুকদেবের কারখানায় কাজ করতে আসা এক কারিগর বলেন, ‘আমরা বছরভর কাজ করি।এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। গতবছর খুব কষ্টে দুর্গাপুজো পার হয়েছে। কাজ ঠিকঠাক ছিল না। এবছরও একই পরিস্থিতি। দুর্গাপুজোয় মা-সন্তানদের জামাকাপড় কিনে দিতে পারব কি না, বুঝতে পারছি না।‘ শুকদেব মালাকার বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়েছে। মাটির দামও বেশি। এদিকে, পুজো উদ্যোক্তারা কম বাজেটে পুজো সারতে চাইছেন। অনেকে এখনও পুজো নিয়ে পরিকল্পনা করে উঠতে পারেননি। প্রতিমা তৈরি করছি। শেষ পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। যদি সব প্রতিমা বিক্রি হয়, তবুও কারিগরদের পয়সা দিয়ে হাতে টাকাই থাকবে না।‘

- Advertisement -