বার্নপুরের গ্রামে মহালয়ার দিনে হয় একদিনের দুর্গাপুজো

459

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: পঞ্জিকা মতে এবারের দুর্গাপুজো মহালয়ার দিন থেকে ১ মাস ৫ দিন পরে। ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী। কিন্তু এর ব্যতিক্রম পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের হিরাপুর থানার বার্নপুরের ধেনুয়া গ্রামে।

বার্নপুরের এই গ্রামে মহালয়ায় দিন হয় দুর্গাপুজো। তাও আবার একদিনের। সেদিক থেকে এই পুজো বাংলার দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে একেবারে ব্যতিক্রম তা বলাই যেতে পারে। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুরোনো রীতি মেনে বৃহস্পতিবার মহালয়ার সকাল থেকে এই পুজো শুরু হয়। নবপত্রিকা বা কলা বউ স্নানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মহা সপ্তমীর পুজো। তারপর একে একে নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে মহাষ্টমী ও মহানবমীর পুজো। তারপর অপরাজিতা পুজো দিয়ে শেষ হয় দশমী।

- Advertisement -

এই বছর ধেনুয়া গ্রামের এই পুজোয় পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন হিরাপুর থানার আশীষকুমার ঠাকুর। তার কথাতেই জানা গেল এই পুজোর পুরোনো ইতিহাস। বাংলার ১৩৮২ বা ২৪ বঙ্গাব্দে ইংরাজির ১৮৬৯ সালে ধেনুয়া গ্রামে এই দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন কালীকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুর। এই গ্রামে তাঁর হাতের তৈরি দক্ষিণা কালী মন্দির ও মহাদেবের মন্দির আছে। কালীকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুর মারা যাওয়ার পরে, তার সমাধিও এখানে করা হয়েছে।

আশীষবাবু বলেন, ‘এখানে মা দুর্গার সঙ্গে তার চার ছেলেমেয়ে লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ নেই। থাকেন না মহিষাসুরও। এখানে মায়ের সঙ্গে থাকেন তার দুই সখী জয়া ও বিজয়া। তারাই মায়ের সঙ্গে এখানে পুজিত হন।’ আশীষবাবুর কথায় জানা যায়, এই পুজো বৈষ্ণব মতে করা হয়। যা কালীকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুর শুরু করেছিলেন। তার কোনও ব্যতিক্রম হয়নি। এই পুজোয় কোনও বলি হয় না।
তবে কেন, মহালয়ার দিনে একদিনের দুর্গাপুজো হয়, তা অবশ্য আশীষকুমার ঠাকুর বা গ্রামের বাসিন্দারা বলতে পারেননি। আশীষবাবু বলেন, ‘আমাদের জানা নেই। হতে পারে তিনি কোনও স্বপ্ন পেয়েছিলেন।’

পুজোর সেবাইত কৃষ্ণচন্দ্র ধীবর বলেন, এখানে মা দুর্গা কুমারী মহামায়া। আগে এখানে কালীপুজো ও শিবপুজো হতো। পরে দুর্গাপুজো শুরু হয়। এবারে করোনা ভাইরাসের কারণে বেশি ভিড় করা হচ্ছে না। শুধু পুজো ও সামান্য মায়ের ভোগ বিতরণ করা হবে। তবে, গ্রামের মহিলারা বলেন, ‘এটা অকাল বোধনও বলা যেতে পারে।’