আলিপুরদুয়ারের পুজো পরিক্রমা

209

আলিপুরদুয়ার: কালজানি নদীর সীমানা শহর আলিপুরদুয়ার। কালজানি সেতু পার করেই দুর্গোৎসবের আমেজ এনে দেয় শহরের সবথেকে পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বারোয়ারি দুর্গাবাড়ির পুজো। এই পুজো এবার ১২৫ বছরে পা দিল। পুরোনো রীতি মেনে সাবেকিয়ানা বজায় রেখে পুজোর আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা।

দুর্গাবাড়ি থেকে বেরিয়ে আলিপুরদুয়ার-পাতলাখাওয়া সড়ক ধরে চৌপথির দিকে এগিয়ে বিভিন্ন পুজোর স্বাদ নেওয়া যেতে পারে। দুর্গাবাড়ি থেকে কিছুদূর এগিয়ে ২০০ মিটার পরই বড়বাজার রেলগেট। রেলগেট থেকে বাদিক ধরে মাছবাজার পার করেই দত্তপট্টিতে পুজোর আয়োজন করেছে বিবেকানন্দ ক্লাব। শহরের গোটা কয়েক বিগ বাজেটের পুজোর মধ্যে এই পুজো অন্যতম। তাদের পুজোর থিম ‘আমার দুর্গা’। বাস্তবে যাঁরা করোনা যোদ্ধা, সেই ডাক্তার, নার্স, পুলিশ কর্মীদের সম্মান জানিয়ে এই থিম। এবছর তাঁদের পুজো ৫৭তম বর্ষ। এই পুজো দেখে আবার চৌপথির দিকে একটু এগিয়ে হাফ কিলোমিটার পরই ডান দিকে গেলেই দেখা যাবে, বাটা মোড়ের পাশে পুজোর আয়োজন করেছে স্টেশনপাড়া ক্লাব। তাঁদের পুজো এবার ১১৫ বছরে পা দিল। চন্দননগরের আলোক সজ্জার বড় গেট পেরিয়ে পুজো মণ্ডপ। স্টেশন পাড়ার পাশেই বাবুপাড়া। ওখানেও বিগ বাজেটের পুজো। ৯৯তম বর্ষতে বাবুপাড়া ক্লাবের পুজোর থিম ‘বাংলার কুঠির শিল্প আমাদের ঐতিহ্য’। এই থিমে একটি ৬০ ফুট উঁচু কাল্পনিক মন্দির তৈরি করা হয়েছে, যা পুরোটাই বাঁশের তৈরি।

- Advertisement -

বাবুপাড়া ক্লাবের পুজো দেখে মায়া টকিজ রোড ধরে চৌপথি আসা যাবে। চৌপথি থেকে ডানদিকে আলিপুরদুয়ার-শামুকতলা সড়ক ধরে প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব শান্তিনগরে রয়েছে হোয়াইট হাউস ক্লাবের পুজো। এই পুজোর থিম ‘প্রকৃতির আঁচলে’। মণ্ডপের ভিতরে আলোক সজ্জা এবং মণ্ডপের সঙ্গে প্রতিমার মিল অন্যতম আকর্ষনের জায়গা এই ক্লাবের। ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তা ধরে শান্তিনগরে পুরোনো মন্দিরেই হচ্ছে উপলমুখর ক্লাবের পুজো। এই পুজো এবার ৭১ বছরে পা দিল। শহরের পাঁচটি বড় পুজোর মধ্যে বরাবর এই ক্লাব থাকলেও, এবছর বড় মণ্ডপ নেই। উপলমুখর ক্লাবের মন্দির থেকেই বেরিয়ে, ৩০০ মিটার এগিয়েই শহরের মূল সড়ক বক্সা ফরেস্ট রোড পাওয়া যাবে। এই সড়কে উঠে সোজা কিছুদূর এগিয়ে রাস্তায় উপর বড় বড় চন্দনগরের আলোক সজ্জার গেট চোখে পড়বে, সৌজন্যে মিলন সংঘ। এগারো হাত কালিবাড়ি এলাকায় মিলন সংঘের ৭৬তম পুজো হচ্ছে। জেলা অতিরিক্ত গ্রন্থাগারের পাশেই তৈরি হয়েছে কাল্পনিক মণ্ডপ। এই পুজো দেখে বক্সা ফরেস্ট রোড ধরে সোজা এগিয়ে বাদিকে দেবীনগর এলাকায় ভাতৃ সংঘের পুজো দেখা যাবে। ওখান থেকে বেরিয়ে আবার মূল রাস্তায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর মহাকাল ধাম। মহাকাল ধাম থেকে বাদিকে মহিলা কলেজ যাওয়ার রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে এবারের শহরের সবচেয়ে বেশি বাজেটের পুজো, সৌজন্যে লোহারপুল ইউনিট। ওই ক্লাবের সামনেই বানানোর হয়েছে বড় মণ্ডপ। পুজোর থিম ‘মাতৃ ঋণ’। লোহারপুল ইউনিটে পুজো দেখে ফেরার পথে মহাকালধাম আসার আগেই ৩০০ মিটার পর রয়েছে বলাই মোড়। এই মোড় থেকে ডানদিকে সোজা এগিয়ে গেলে পাওয়া যাবে রুপায়ন সংঘের পুজো। এই পুজো এবার ৪৩তম বর্ষ। কাল্পনিক মন্দিরের আদলে মণ্ডপ এবং সাবেকিয়ানার ছোঁয়া থাকছে এই পুজোয়। ওখান থেকে কিছুদূর এগিয়ে নিউটাউন দুর্গাবাড়ি এবং সেখান থেকে আবার কিছু পথ গেলে নেতাজিরোড দুর্গাবাড়ি। দুটো পুজোই পুরোনো নিয়ম মেনে স্থায়ী মন্দিরে হচ্ছে। নিউটাউন দুর্গাবাড়ির এবারের পুজো ৮১ তম এবং নেতাজিরোড দুর্গাবাড়ির এবারের পুজো ৭০তম বর্ষ। এই মন্দিরগুলিতে প্রতিমা দর্শনের পর বক্সা ফরেস্ট রোড ধরে প্রায় তিন কিলোমিটার এগিয়ে জংশনের লিচুতলা এলাকায় দুটো বিগ বাজেটের পুজো দেখা যাবে। বক্সা ফরেস্ট রোডের বা পাশেই পুজোর আয়োজন করেছে যুব সংঘ, এই ক্লাবের পুজো আবার ৬৩তম বর্ষ। এই পুজোর থিম ‘পৃথিবী আবার শান্ত হবে’। প্রকৃতির ক্ষতি করে এমন কোনও জিনিস মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়নি। জংশন লিচুতলা এলাকায় আবার আরেক বিগ বাজেটের পুজোর আয়োজক যুব সংঘ কালীবাড়ি। তাদের পুজোর থিমে ফুটে উঠবে শ্রী কৃষ্ণের শৈশবের বিভিন্ন লীলা। আশি ফুট উঁচু মণ্ডপের ভিতর বিভিন্ন ভাস্কর্য দেখা যাবে সেখানে।