সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : এক বছরের বেশি সময় ধরে ধূপগুড়ি রেলস্টেশনে গুডস ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ চলছে। অন্যদিকে, স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চলছে ডাবল লাইন পাতার কাজ। এই কারণে প্রতিদিন বালি-পাথর সহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নিয়ে কয়েকশো ডাম্পার ও লরি ওই এলাকায় যাতায়াত করে। চব্বিশ ঘণ্টা এভাবে ডাম্পার ও লরি চলায় ধূপগুড়ি স্টেশন রোড ক্রমেই বেহাল হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ি চলাচলের ফলে ওড়া ধুলোয় এলাকার কয়েকশো পরিবার সমস্যায় পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনবরত চলা ডাম্পার ও লরির জন্য পথের ধুলোয় বাড়িঘর ভরে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ধুলোর জন্য প্রায় প্রতিটি বাড়িতে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট সহ একাধিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নির্মাণকারী সংস্থার তরফে এই পথে জল ছেটানো বন্ধ করে দেওয়া হলে এই সমস্যা চরম আকার ধারণ করে। চলতি বছরে এই ধুলোর সমস্যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা একাধিকবার নির্মাণ সংস্থা এবং রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পথ অবরোধেও শামিল হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পথ অবরোধ করলে তারপর কিছুদিন নিয়মিত কয়েকবার জল ছেটানো হয়। ফলে পরিস্থিতি মোটের ওপর ঠিক থাকে। কিন্তু কদিন গেলেই ফের জল ছেটানো বন্ধ হয়ে যায়।

- Advertisement -

পাশাপাশি সময়ে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির গতি কয়েগুণ বেড়ে যায়। এরফলে এলাকাবাসীকে ধুলোর দাপটে সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয় মহিলাদের পক্ষে আনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের এলাকায় ধুলোর জন্য ঘরের জানালা, দরজা খুলে রাখা যায় না। কিছু রান্না করে রাখলে তাতে ধুলো পড়ে খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাতেরবেলাতেও অনবরত ডাম্পার ও লরি চলে। যার ফলে আমাদের ঘুমোনোও দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা বহুবার এই বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাণ সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু তাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কিছুই হয়নি। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, এই লরি এবং ডাম্পারগুলি বেআইনিভাবে নির্ধারিত পরিমাণের প্রায় তিনগুণ সামগ্রী নিয়ে চলাচল করে।

এ বিষয়ে ধূপগুড়ির স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্ট অরবিন্দকুমার রায় বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যার কথা বুঝে নির্মাণ সংস্থাকে আমরা নিয়মিত ওই পথে জল ছেটানোর ব্যবস্থা করতে বলেছি। সেটা যাতে নিয়মিত করা হয় তা আমরা দেখব। আশা করব আগামীদিনে এই জাতীয় সমস্যা আর হবে না। অন্যদিকে ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিং বলেন, দিনেরবেলায় শহরের থানা রোডের মতো ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে ডাম্পার ও লরি চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যার বিষয়ে প্রযোজনে আমরা রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। গাড়ির ধুলোয় শিশু ও বয়স্কদের রোগাক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া হবে না।