ধুলোয ঢেকেছে ৩৪ নম্বর জাতীয সড়ক

438

ডালখোলা : ধুলোর জেরে ৩৪ নম্বর জাতীয সড়ক দিযে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। রাস্তার উপরে স্তূপ করে রাখা মাটি এবং ছাইবোঝাই গাড়ির অবাধ যাতায়াতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গিয়েছে। এসবের জেরে জাতীয সড়কের ডালখোলা থেকে দোমোহনা ধুলোয় ঢেকেছে। একই অবস্থা পূর্ণিযা মোড় থেকে ডালখোলা অবধি। পরিস্থিতি এমন পর্যাযে পৌঁছেছে যে ধুলো থেকে রেহাই পেতে নাকে-মুখে কাপড় চাপা দিয়েও রেহাই মিলছে না। ফলে শ্বাসজনিত অসুখ বাড়ছে। তবে ধুলো কমাতে জল ছিটানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন থেকে ক্ষেত্রাবাড়ি এলাকার রাস্তায ঢিমেতালে কাজ চলছে বলে অভিযোগ। সে জন্য আশপাশের দোকান এবং বাড়িতে ধুলোর পুরু আস্তরণ জমছে। কিন্তু ধুলো কমাতে জেলা প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ। ট্যাংকারের সাহায্যে জল ছিটানো হচ্ছে না। তাই ধুলো বাড়ছে।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা বিজয় সিনহা বলেন, ‘ধুলোর জেরে ওই সড়কে দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। তাই ছোট মেয়েকে স্কুলগাড়িতে পাঠাতে ভরসা পাই না। নিজেই নিয়ে যাই এবং নিয়ে আসি। কিন্তু ধুলোর জন্য হাঁপানির কষ্ট আরও বাড়ছে। রহতপুর, বাগিলা, পাতনোর এলাকায় খুব ধুলো উড়ছে।’ স্থানীয বাসিন্দাদের কথায়, সড়কে এমন অবস্থা যে, মুখ না ঢেকে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না। স্থানীয মানুষ ক্ষুব্ধ ছাইবোঝাই গাড়ি নিয়ে। সেই ছাই ট্রাক থেকে পড়ছে সড়কে। তা থেকে ধুলো উড়ছে চারদিকে।

কর্মসূত্রে মোটরবাইকে তিতপুকুর হাইস্কুলে যান শিক্ষক রথীন্দ্র নাথ এবং সুদর্শন মণ্ডল। তাঁরা জানান, দিন-রাত ধুলোর কবলে পড়ে সড়কে প্রাযই দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষের স্বার্থে এই সমস্যার সমাধান দরকার। পাতনোর গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ আলি বলেন, ‘ঠিকাদার সংস্থাকে বারবার বলা হলেও জল ছড়াচ্ছে না। ধুলোর সমস্যা থেকে বাঁচতে অবিলম্বে জল না ছড়ালে এলাকার বাসিন্দারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্যে হবেন।’ ডালখোলা পুরসভার যুগ্ম প্রশাসক সুভাষ গোস্বামী তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘নির্মাণকারী সংস্থা সড়কে জল না দেওয়ার ফলে ধুলো উড়ছে। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। শ্বাসজনিত রোগ সহ বিভিন্ন রোগের কবলে পড়ছে মানুষ।’

ডালখোলা ট্রাফিক থানার ওসি দিব্যেন্দু দাস বলেন, ‘ধুলোর জন্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। তার উপর রেল ক্রসিংয়ে মেরামতি চলছে, তাতে যানজট বাড়ছে। সাধারণ মানুষ নাজেহাল হচ্ছে। আমরা নিরুপায হযে পড়ছি।

ওই ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে।

ছবি- ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের এমনই হাল।

তথ্য ও ছবি- বরুণ মজুমদার