‘ম্যানমেড বন্যা’ ভিত্তিহীন অভিযোগ, মন্তব্য ডিভিসি কর্তৃপক্ষের

63

আসানসোল: মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে বুধবার ৫৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়ল ডিভিসি। ডিভিসির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অনেকটা জল ধরে রাখা ছিল। মাইথনে ৪৯১ ফুট পর্যন্ত জলস্তর উঠেছিল। পাঞ্চেতে ৪৩১ ফুটের কাছাকাছি ধরে রাখা ছিল। এই দুই জলাধারেই বিপদ সীমা পার করে গিয়েছিল জলের স্তর। এখনও মনসুনের দু’মাস বাকি। আরও বৃষ্টি হতে পারে। জলাধারগুলিকে এত হাই লেভেল পর্যন্ত রাখা সম্ভব না। তাতে সমস্যা হতে পারে। তাই আগামীর কথা মাথায় রেখে ডিভিসিকে জল ছাড়তেই হয়েছে। ২৫ হাজার কিউসেক জল মাইথন থেকে আর ৩০ হাজার কিউসেক জল পাঞ্চেত থেকে ছাড়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত বছরগুলির মতো এবারেও অভিযোগ করে বলেছেন, পলি সংস্কার করছে না ডিভিসি। তারা কোনওরকম আলোচনা না করেই জল ছাড়ছে। এবিষয়ে সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘জলাধার তৈরির পর তার আয়ু ঠিক হয়। সেক্ষেত্রে মাইথনের আয়ু তৈরি ৭৫ বছর। এখন বয়স ৬০ বছর। জলাধারে পলি সংস্কারের তেমন পরিকাঠামো আমাদের দেশে নেই। মাইথন ও পাঞ্চেতের যদি পলি সংস্কার করতে হয় তবে খরচ পড়বে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু নতুন জলাধার তৈরি করতে খরচ ১০ হাজার কোটি টাকা। তাই পলি সংস্কারের সম্ভবনা নেই মাইথন ও পাঞ্চেতে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, কমার্শিয়ালি এবিষয়টি একেবারেই বাস্তবসম্মত নয়। এত পলি সংস্কার করে রাখার মতো জমিও পাওয়া যাবে না। আমরা এই কয়েকদিনের মধ্যে একদিনে সব থেকে বেশি জল ছেড়েছি ১ লক্ষ ১৪ হাজার কিউসেক। এটাই আমাদের একদিনের সর্বোচ্চ। দামোদর ভ্যালি রিসার্ভার রেগুলেশন কমিটি ও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই জল ছাড়া হয়েছে।’

- Advertisement -

তিনি দাবি করেন, দু’জায়গায় ৩ লক্ষ কিউসেক জল ঢুকেছিল। সেই জল কখনও ৫৫ হাজার আবার কখনও ১ লক্ষ কিউসেক হিসেবে ছাড়া হয়েছে। তাই ডিভিসি না থাকলে উদয়নারায়ণপুর ও খানকুলে ৩ লক্ষ কিউসেক জলই চলে যেত। সেই জল বেড়ে ৫ লক্ষ কিউসেক হতে পারত। ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ম্যানমেড বন্যা’ বলে ডিভিসির যে উপর দায় চাপিয়েছেন সেটা ঠিক নয়।