শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাতেই কোতুলপুর রওনা হল মইদুলের দেহ

103

কলকাতা: গত ১১ ফেব্রুয়ারি বামপন্থী ছাত্র-যুবদলের ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে ডাকা নবান্ন অভিযান অংশ নিয়ে পুলিশের লাঠির আঘাতে গুরুতর রূপে আহত হয়েছিলেন মইদুল ইসলাম মিদ্যা নামে এক ডিওয়াইএফআই কর্মী। টানা তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে রবিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাম ও কংগ্রেস নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি নাসিংহোম থেকে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা পুলিশ মর্গে।  সেখানে জড়ো হন বাম ছাত্র-যুবকদের প্রচুর নেতাকর্মী। ময়নাতদন্ত শেষে তার দেহ ছাড়া নিয়ে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বাম ছাত্র যুব নেতা কর্মীদের হাতাহাতি বেঁধে যায়। রাত প্রায় সাতটা নাগাদ নিহত মঈদুলের মরদেহ মগ থেকে নিয়ে আসা হয় আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের উপর ডিওয়াইএফআই এর রাজ্য দপ্তরে। সেখানে হাজির ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সহ বাম রাজনীতির প্রথম সারির নেতারা। সেই সঙ্গে হাজির ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অধীর চৌধুরী, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তী সহ আরো অনেকে। দীনেশ মজুমদার ভবনের সামনে শায়িত রাখা মঈদুলের মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে তার প্রতি তারা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে মঈদুলের দেহ নিয়ে দলীয় কর্মীরা কোতুলপুর এ তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাত প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ।

      এদিন মঈদুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে কয়েক জায়গায় বামপন্থী ছাত্র যুবকদের হাতে পুলিশকে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তবে উত্তেজিত দলীয় কর্মীদের হাত থেকে পুলিশকর্মীদের বাঁচাতে তৎপর ছিলেন ডিওয়াইএফআই নেতারা। সেই সঙ্গে এদিন কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বাম ছাত্র-যুবকদের পক্ষ থেকে পথ অবরোধ করা হয়। সেই সঙ্গে করা হয় বিক্ষোভ মিছিল। আর তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এদিন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র জানান, এই বর্বরতার বিরুদ্ধে ছাত্রযুবদের প্রতিবাদ কর্মসূচীকে পার্টি সমর্থন করছে। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে গণআন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে নিহত শহীদ মইদুল মিদ্যার পরিবারের পাশে সর্বতোভাবে থাকবে বলেও তিনি জানান।

- Advertisement -