শান্ত বর্মন, জটেশ্বর : প্রতিবছর বর্ষায় ডুডুয়া নদী আলিপুরদুয়ার জেলার সরুগাঁও ঘাটপাড় ও জলপাইগুড়ি জেলার মুন্ডাপাড়ার কয়েকহাজার বাসিন্দার কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়দের দাবি মেনে দুই জেলার অংশে থাকা ওই ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে নদীবাঁধ তৈরিতে উদ্যোগী হয় জলপাইগুড়ি সেচ ও জলপথ বিভাগ। মাস ছয়েক আগে মুন্ডাপাড়া ও সরুগাঁও ঘাটপাড়ে ডুডুয়া নদীর পাড়বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয়। টানা তিনমাস কাজ চলার পর বাঁধ তৈরি হয়। এরপর তিনমাস কাটতে না কাটতেই ফালাকাটা ব্লকের দিকে থাকা বাঁধের বহু অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। সদ্য তৈরি করা পাড়বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বানভাসি হওয়ার আশঙ্কা করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি সেচ ও জলপথ বিভাগের উদ্যোগে ধূপগুড়ি ব্লকের মুন্ডাপাড়া এবং ফালাকাটা ব্লকের সরুগাঁও ঘাটপাড় এলাকায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০০ মিটার পাড়বাঁধ তৈরি হয়। কিন্তু কাজ শেষের তিন মাসের মধ্যেই সুরগাঁও ঘাটপাড় এলাকায় পাড়বাঁধটির বেশ কিছু অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যায়। তিন মাসের মধ্যে নদী বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বক্তব্য, সেচ দপ্তরের উদ্যোগে শুরু হওয়া ওই কাজে দুর্নীতি হয়েছে। ধূপগুড়ির মুন্ডাপাড়ার ৪৫০ মিটার বাঁধের তুলনায় ফালাকাটা ব্লকের ৪৫০ মিটার বাঁধ নিম্নমানের হয়েছে এবং সেখানে একেবারে ছোটো মাপের পাথর দিয়ে নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

- Advertisement -

বিজেপি নেতা তথা স্থানীয় বাসিন্দা এসরাউল আলম বলেন, সঠিকভাবে কাজ না হওয়ার জন্যই নবনির্মিত বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। ডুডুয়া নদীর ওই বাঁধ নির্মাণে ছোটো মাপের পাথর ব্যবহার করা হয়, সেজন্যই পাড়বাঁধ ভেঙে যায়। আমরা সঠিকভাবে তদন্ত করে পুনরায় কাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দা বঙ্কিম ডাকুয়া বলেন, আমরা চাই সঠিকভাবে কাজটি করা হোক। এবিষয়ে তৃণমূলের ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সগেন্দ্রনাথ রায়ের অভিযোগ, সেচ ও জলপথ বিভাগের উদ্যোগে যে পাড়বাঁধের কাজ করা হয়েছে তা খুবই নিম্নমানের হয়েছে। কাজ সঠিকভাবে হলে তিনমাসের মাথায় ভেঙে যেত না। বিষয়টি বিডিও-কে জানিয়েছি। তদন্ত করে ফের কাজ শুরুর দাবি জানাই। এ বিষয়ে জলপাইগুড়ি ডিভিশনের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার যশপ্রকাশ পান্ডে বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।