লকডাউনে একশো দিনের কাজে মেশিন নামানোর অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে মিলল না সদুত্তর

259

ফাঁসিদেওয়া, ২৯ এপ্রিলঃ একশো দিনের কাজে শ্রমিক না লাগিয়ে, আর্থমুভার দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগে মঙ্গলবার ফাঁসিদেওয়া বাঁশগাও কিশমত গ্রাম পঞ্চায়েতের সুদামগছ এলাকায় ব্যপক উত্তেজনা ছড়ালো। স্থানীয় জবকার্ডধারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের কাজে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের সুপারভাইজার আর্থমুভার নামিয়ে কাজ করেছেন। এদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে জানানো হচ্ছে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে মূখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর, নতুন করে একশো দিনের কাজ শুরুই করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে একশো দিনের কাজই করা হচ্ছিল। লকডাউনে যেখানে, গরীব মানুষ কাজ পাচ্ছে না, সেখানে একশো দিনের কাজে রাস্তা তৈরির বরাত থাকলেও, মেশিন নামিয়ে কিভাবে পুকুর কাটার কাজ হল, তা নিয়েও ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। এদিকে, যদি সরকারি কাজ না হয় তবে, মাটি কাটার জন্য অভিযুক্ত কিভাবে মেশিন নামানোর অনুমতি পেল, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই, স্থানীয়রা একশো দিনের কাজে দূর্নীতি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন।

লকডাউনের মাঝে গ্রামের গরীব মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন৷ সেই কারণে রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জবকার্ডধারী গরীব মানুষের কথা মাথায় রেখে সকল কাজ বন্ধ থাকলেও, গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একশো দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মোট ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ টিতে ইতিমধ্যেই একশো দিনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার হেটমুড়ি সিঙ্ঘীঝোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতেও কাজ শুরু করা হয়েছে৷ তবে, ফাঁসিদেওয়া বাঁশগাও কিশমত গ্রাম পঞ্চায়েতে সরকারিভাবে একটি কাজও শুরু করা হয়নি। কিন্তু, স্থানীয়দের দাবি মতো, কে বা কারা আর্থমুভার নামিয়ে পুকুর কাটার কাজ করালো, তা নিয়ে বিভিন্নমহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে, এধরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সুদামগছ ১ নম্বর সংসদের বাসিন্দা মহম্মদ রাকিবুল, মহম্মদ আসীর, মহম্মদ করিমুল প্রমুখ জানিয়েছেন, একশো দিনের কাজের সুপারভাইজাররা শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর বদলে, মেশিন দিয়ে কাজ করিয়ে, সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। কয়েকজনের জবকার্ডের মাধ্যমে সুপারভাইজাররা সেই টাকা তুলেও নিচ্ছেন। কিন্তু, সাধারণ মানুষ কোনও কাজ পাচ্ছে না। লকডাউনে গরীবরা কার্যত অনাহারেই থেকে যাচ্ছে।

- Advertisement -

অসমর্থিত সূত্রের খবর, এভাবেই বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারের সুপারভাইজাররা নিজের জমিতে বোরো ধানে জল দেওয়া থেকে শুরু করে নানান কাজ করিয়ে, কিছু পরিচিত শ্রমিককে একশো দিনের কাজের টাকা পাইয়ে দিচ্ছেন। মেশিন নামিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় কয়েক লক্ষ টাকার কাজ প্রথমে পরিচিত শ্রমিকদের দিয়ে করিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বাকি কাজ মেশিন দিয়ে করে, শেষে ফের কয়েকজন শ্রমিকদের দিয়ে কাজ শেষ করানো হয়। এভাবেই সুপারভাইজাররা ইচ্ছেমত গরীবদের জন্য গরীবদের জন্য চালু করা সরকারের প্রকল্প থেকে মোটা টাকা মুনাফা করছেন বলে অভিযোগ। মহম্মদ আসীর আরও জানিয়েছেন, তিনি বছর পাঁচেক আগে একশো দিনের কাজে পুকুর খনন করেছিলেন৷ এরপর থেকে একটি কাজও পাননি। এমনকি নানান আছিলায় তাঁকে, সেই কাজের টাকা আজও দেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ওই সংসদে একধিক কাজ লকডাউনের আগে চালু ছিল।

ফাঁসিদেওয়া বাঁশগাও কিশমত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাহানারা বেগম জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রাম পঞ্চায়েতে এখন কোনও কাজ হচ্ছে না। আর্থমুভার নামিয়ে কাজ করানোর প্রসঙ্গে তিনি জানান, ওখানে কোনও ব্যক্তি নিজস্ব কাজ করিয়েছেন। ফাঁসিদেওয়ার সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতে এই মুহুর্তে একজন শ্রমিককেও ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি এক্টের আওতায় কাজে নেওয়া হয়নি। কারণ ব্লক অফিস কিংবা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কোনও কাজ শুরু করা হয়নি। খুব শীঘ্রই একশো দিনের কাজ প্রকল্প শুরু করা হবে।