বিপ্লব হালদার, তপন : প্রকল্পের জন্য ঘর তৈরি হয়েছে গত তিন বছর আগে। কিন্তু এখনও চালু হয়নি তপন ব্লকের কেঁচো সার প্রকল্প। তার ফলে ঘরের ছাউনি চুরি সহ সন্ধে হতেই এলাকায় মদের ঠেক ও জুয়ার আসর বসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে প্রকল্পটি চালু করার দাবি তুলেছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

বাড়ি বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে তা দিয়ে কেঁচো সার তৈরির উদ্যোগ নেয় তপন ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। সেইমতো গত তিন বছর আগে রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের করদহের জামালপুরে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কেঁচো সার প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। কিন্তু প্রকল্পটি তিন বছর আগে গড়ে উঠলেও এখনও চালু হয়নি। আর তার ফলেই সেটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। চুরি হয়ে যাচ্ছে টিনের ছাউনি। সন্ধে হতেই বসছে মদের ঠেক।

তপন দিঘি সুরক্ষা সমিতির অন্যতম কর্মকতা পিয়ালি রায় বলেন, বাড়ি বাড়ি থেকে আবর্জনা তুলে এক জায়গায় রেখে পচনের মাধ্যমে কেঁচো সার তৈরির উদ্যোগটি খুবই ভালো। এতে এলাকাগুলি যেমন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকত, পাশাপাশি কেঁচো সার তৈরি হলে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হতেন। কিন্তু গত তিন বছরেও সেই প্রকল্পটি চালু হয়নি। আমরা পঞ্চায়েতের কাছে দাবি করছি যাতে প্রকল্পটি দ্রুত চালু হয়।

পরিবেশপ্রেমী অলোক সরকার বলেন,তপন ব্লকের মধ্যে রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রথম আবর্জনা সংগ্রহ করে কেঁচো সার তৈরির উদ্যোগ নেয়। ঘর সহ জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে কিন্তু বাড়ি বাড়ি থেকে কীভাবে আবর্জনা সংগ্রহ করবে, সেবিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আর তাই দীর্ঘদিন ধরে কেঁচো সার প্রকল্পটি চালু হয়নি। প্রকল্পটি চালু না হওযায় টিনের ছাউনি চুরি হয়ে যাচ্ছে। কেঁচো সার তৈরির জন্য যে সব চৌবাচ্চা তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকারে প্রকল্পের ঘরে বসছে মদের ঠেক, ফলে পরিবেশ খারাপ হচ্ছে, ক্রমশ। কেঁচো সার তৈরির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যাতে খুব তাড়াতাড়ি চালু হয়, সে বিষয়ে আমরা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শেফালি রায় বলেন,কেঁচো সার প্রকল্পটি কীভাবে চালু করা যাবে, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা চালাচ্ছি। যদিও এবিষয়ে তপন ব্লক প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিযা মেলেনি।