প্রতীক্ষার অবসান, চলতি বছরই আইএসএলে খেলবে ইস্টবেঙ্গল

315

কলকাতা: শত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আইএসএল লিগে খেলতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। মেগা টুর্নামেন্টে দেখা যাবে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ডার্বি ম্যাচ। রবিবার স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (এফএসডিএল)-এর চেয়ারপার্সন নীতা অম্বানি সরকারিভাবে আইএসএল-এ ইস্টবেঙ্গলের অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়ে দিলেন। আর তার ফলে লাল হলুদ শিবিরে উৎসবের জোয়ার। শেষমেশ এ বারের আইএসএল অনুষ্ঠিত হবে ১১ টি দলকে নিয়ে।

এদিন, নীতা অম্বানি জানিয়েছেন, ‘আইএসএল-এর জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের একটা মুহূর্ত। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ও তার লক্ষ লক্ষ সমর্থকদের লিগে স্বাগত জানাচ্ছি। দুই ঐতিহ্যশালী ক্লাব- ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের (বর্তমানে এটিকে-মোহনবাগান) অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় ফুটবলে সীমাহীন সুযোগ আনতে চলেছে। সেই রাজ্যে প্রতিভা অন্বেষণের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় ধাপ।‘

- Advertisement -

এদিন ক্লাবের সহ সচিব শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত বললেন, ‘শতবর্ষে এর থেকে ভাল খবর আর হয় না। ভারতীয় ফুটবলে আইএসএলকেই একনম্বর লিগের মান্যতা দেওয়া হচ্ছে। আর সেই লিগে ইস্টবেঙ্গল খেলবে না, তা হয় নাকি! আধুনিক ভারতীয় ফুটবল যে পথে এগোচ্ছে, ইস্টবেঙ্গলও সেই পথই নিল। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ফুটবলকে সমৃদ্ধ করে আসছে। দুটো ক্লাবকে বাদ দিয়ে ভারতীয় ফুটবলের কথা ভাবা যায় না। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান আইএসএল খেলছে এটা ভাল দিক। ভবিষ্যতে মহমেডান স্পোর্টিংও খেলুক আইএসএল, এটা আমরা চাই। সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছি। সমর্থকপুষ্ট তিনটি ক্লাব যদি কোনও লিগে না থাকে, তা হলে ফুটবল এগোতে পারে না বলেই আমার মনে হয়। সেই কারণে মহমেডান স্পোর্টিংকেও আইএসএল-এ চাইছি।‘

সূত্রের খবর, আগের বিনিয়োগকারী সংস্থা চলে যাওয়ার পরে নতুন ইনভেস্টরের খোঁজে ছিল লাল-হলুদ শিবির। চলতি বছর আইএসএল লিগে খেলা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল এই শতাব্দি প্রাচীন ক্লাবের। এরপরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে ইস্টবেঙ্গলের জন্য লগ্নিকারী সংস্থা খুঁজে দেওয়ার জন্য সচেষ্ট হন মুকেশ ও নীতা আম্বানিরা। কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা এগোলেও শেষ পর্যন্ত শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে চুক্তি পাকা হয় লাল-হলুদের। কিন্তু আইএসএল-এ খেলার সরকারি ঘোষণা কবে হবে, তার অপেক্ষায় ছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। রবিবার এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এ বারের আইএসএল খেলবে ইস্টবেঙ্গল, তার সরকারি ঘোষণা হয়ে গেল। করোনা আবহে পুজোর উপহার পেল এই শতাব্দি প্রাচীন ক্লাব ইস্টবেঙ্গল।