কর্তা বনাম সমর্থকে অগ্নিগর্ভ ইস্টবেঙ্গল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : হয় এসপার নয় ওসপার।

বুধবাসরীয় ময়দানে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ছবিটা একঅর্থে তাই। ক্লাব বনাম বিনিয়োগকারীর মধ্যে চুক্তিসমস্যায় ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল ভবিষ্যৎ আপাতত বিশ বাঁও জলে। দুর্দশার ছবিটা ক্রমশ ক্ষোভের সঞ্চার করছিল লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে। এদিন সেই বিদ্রোহ বিস্ফোরণের আকার নিল। আর তাতে স্পষ্ট হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের ক্লাবকর্তা বনাম সমর্থকদের বিরোধের ছবিটা।

- Advertisement -

২১ জুলাই ক্লাবতাঁবুর সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে, সেটা আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করেছিল লাল-হলুদের চার ফ্যান ফোরাম। তাদের উদ্যোগে সামিল হয়েছিলেন বহু সমর্থক। বেলা গড়াতে না গড়াতেই লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে জনজোয়ার। গো ব্যাক নীতু কিংবা সাইন অ্যান্ড রিজাইন লেখা প্ল্যাকার্ডে তখন সরগরম ময়দানের বটতলা। শুধুমাত্র কলকাতা নয়, জেলা থেকেও বহু সমর্থক এদিন যোগ দিয়েছিলেন বিক্ষোভে। তাঁদের আঙুল ক্লাবকর্তাদের দিকে। তাঁদের অভিযোগ, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে কর্মকর্তারা ক্লাবের ফুটবল ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছেন।

ইস্টবেঙ্গলের ক্লাব গোষ্ঠী এবং বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের সংঘাতের জল যে অনেকদূর গড়াতে পারে, তার আগাম আভাস আগেই ছিল। সেটা মাথায় রেখে লাল-হলুদের ক্লাবতাঁবু পর্যন্ত মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ। তা সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত এড়ানো যায়নি সংঘাত। দুপক্ষের বাদানুবাদ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে হাতাহাতিতে। ভাঙা হয় বিক্ষোভকারী সমর্থকের গাড়ি। আহত হন সমর্থক। তবে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যেতে দেয়নি পুলিশ-প্রশাসন। বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের দাবি, ঝামেলার পরিস্থিতি তৈরি করেছেন ক্লাবের দুর্নীতিপরায়ণ কর্তাদের মদতপুষ্ট লোকেরা। ক্লাবকর্তাদের সমর্থনকারীদের চিহ্নিত করার জন্য নীল-সাদা রিবন বাঁধা ছিল তাঁদের হাতে। সংখ্যায় তাঁরা বিক্ষুব্ধদের তুলনায় কম হলেও অধিকাংশই বহিরাগত, দাবি বিক্ষোভকারীদের।

পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তাই জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল পুলিশের তরফে। তারমধ্যেই পুলিশিরে সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারী লাল-হলুদের সমর্থকেরা। পুলিশের তরফে অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের গাড়ি ভাঙচর করতেই লাঠিচার্জে বাধ্য হয় তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা। আহতও হন তিন-চার সমর্থক। অসুস্থও হয়ে পড়েন কয়েকজন। চারজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। আহতদের মধ্যে অনির্বাণ দাস ও জ্যোতিষ্ক মিস্ত্রী নামে দুই সমর্থকের চোট লাগে বেশি। বিক্ষোভকারীদের উদ্যোগেই তাদের নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

তবে দিনের শেষে ক্লাবকর্তা বনাম সমর্থকদের বিরোধের ছবিটা সর্বসমক্ষে চলে আসায় আদপে যে লজ্জায় পড়ল শতবর্ষপ্রাচীন ইস্টবেঙ্গল, তা বলাই বাহুল্য।