ফক্সকে নিয়ে ধোঁয়াশা, চোটে জেরবার ইস্টবেঙ্গল

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : পরপর ২ ম্যাচে হার। আর এবার গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো চোট-আঘাতে জর্জরিত লাল-হলুদ শিবির। মুম্বই সিটি এফসি ম্যাচের শুরুতেই ড্যানি ফক্সের চোট নাড়িয়ে দিয়ে যায় গোটা দলকে। যেখান থেকে আর পুরো ম্যাচে ফিরতে পারেননি এসসি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা। এখন জানা যাচ্ছে, দলের আরও অনেকের চোট-আঘাত রয়েছে।

মঙ্গলবার রাত থেকে রবি ফাওলারের মন্তব্য ঘিরে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হওয়াতেই সম্ভবত এদিন দল এবং ফক্সের চোট সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে মুখ খুলতে দেখা গেল তাঁর সহকারী টনি গ্রান্টকে। এদিন তিনি জানান, আমাদের দলে এই মুহূর্তে অনেক চোট-আঘাত। এটিকে মোহনবাগান ম্যাচে লোকেন মিতেই এত ভালো খেলল কিন্তু ওর পেশিতে চোট। অ্যারন আমাদি-হলওয়ের গোড়ালি টুইস্ট হয়ে গিয়েছিল অনুশীলনের সময়ে। এটা যে কোনও ফুটলারের সঙ্গেই ঘটতে পারে। আসলে মাঠের জন্য ওর এরকম হয়েছে। কবে ও ফিরতে পারবে জানি না। আশা করছি দেরি হবে না। আর এবার ড্যানি। গত রাতে ম্যাচের শুরুতেই ওর লেগে গেল। ওর চোট কতটা গুরুতর এখনও পরিষ্কার নয়। আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যে চিত্রটা পরিষ্কার হবে।

- Advertisement -

তিনি এর বেশি কিছু বলতে না চাইলেও ফক্সের চোট যে খুব সাধারণ নয়, সেটা খানিকটা ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, এভাবে স্ক্যান না করে কিছু বলা যায় না। আমাদের কাছে সঠিক তথ্য নেই, কীভাবে বলব, কতটা সিরিয়াস ওর চোট? শিবিরের খবর, খুব ভালো নয় ফক্সের পরিস্থিতি। এদিনও ব্যথা থাকায় এমআরআই করা যায়নি। সম্ভবত বৃহস্পতিবার হবে। তবে দলের সঙ্গে থাকা লোকজন মনে করছেন, খুব কম হলেও দিন কুড়ি লাগতে পারে ফক্সের ফিরতে। সেক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে অন্তত গোটা পাঁচেক ম্যাচ তো চলে যাবেই। মঙ্গল-রাতে হারের রেশ মেলানোর আগেই অবশ্য বিতর্ক তৈরি করে ফেলেছেন কোচ রবি ফাওলার।

কিছু ভারতীয় ফুটবলার এর আগে কোনও কোচের অধীনে খেলেছে কি না বুঝতে পারছি না, তাঁর এই মন্তব্যে কেউ বিরক্ত, কেউ ক্ষুব্ধ আবার কেউ বা তাঁর ধৃষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তপক্ষ অবশ্য দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে মাঠে নেমে পড়েছেন। তাঁদের মন্তব্য, এতে এত বিতর্ক তৈরি করার কোনও মানে হয় না। রবি কিন্তু কাউকেই ছোট করতে একথা বলেননি। আসলে ফুটবলাররা পরিকল্পনামাফিক খেলতে না পারলে শিক্ষক তো রাগ করবেনই। বরং আমাদের ফুটবলারদের এরকম একটা ঝাঁকুনি প্রয়োজন ছিল। ওরা পজিটিভলিই নিয়েছে গোটা ব্যাপারটাকে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। কিন্তু তাঁরা যাই বলুন না কেন, কোচের এই মন্তব্যে শিবিরে বিদ্রোহ তৈরি হতে পারে বলেও অভিজ্ঞমহল মনে করছে।

তবে ম্যাচ না জিতলে যে তাঁদের কথাও কেউ শুনবে না, এটা অবশ্য বুঝতে পারছেন জেজে লালপেখলুয়া-বলবন্ত সিং-নারায়ণ দাসরা। এরইমধ্যে একজন ভালো বিদেশি স্ট্রাইকারের খোঁজ শুরু করে দিয়েছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কথাবার্তা চলছে বুন্দেশলিগায় খেলা একজন স্ট্রাইকারের সঙ্গে। চুক্তিতে সই হয়ে গেলেই তাঁকে দ্রুত এনে কোয়ারান্টিন পর্ব শেষ করিয়ে দলের সঙ্গে অনুশীলনে নামিয়ে দিতে চান তাঁরা। যাতে জানুয়ারির উইন্ডো খুললেই সইসাবুদ পর্ব মিটিয়ে মাঠে নামানো যায়। কারণ, ফাওলার সহ সকলেই মনে করছেন, যতক্ষণ না দল গোল পাচ্ছে ততক্ষণ ছন্দে আসবে না এসসি ইস্টবেঙ্গল।