অজিতের চিঠিতে ফের বেকায়দায় ইস্টবেঙ্গল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ভবিষ্যৎ কী? এখন বোধহয় সাহস করে ক্লাব কর্তারাও আর এই বিষয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাইবেন না। কারণ সম্পর্কে চিড় ধরার পর থেকে তাঁরা অজিত আইজ্যাকের চালে মাত খেয়ে চলেছেন। নতুন কোম্পানির ব্যাপারে ফেডারেশনের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে গিয়ে ফের বিপাকে ইস্টবেঙ্গল।

দিন পাঁচেক আগে ফেডারেশনকে একটি পুরোনো এবং একটি নতুন চিঠি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠায় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। লাল-হলুদের তরফে এই দুটো চিঠি ছিল মূলত গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে হওয়া সুব্রত নাগের সঙ্গে ক্লাব ডিরেক্টরদের সভার মিনিটস এবং তার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে ছিল বর্তমানে ক্লাবের তরফে নতুন করে তৈরি করা একটি কোম্পানির কাগজপত্র। যার ভিত্তিতে অনুরোধ করা হয়, পুরোনো পরিচয় ভুলে ফেডারেশন যেন এখন থেকে এই নতুন কোম্পানিকেই ফুটবল দলের পরিচালনার জন্য মান্যতা দেয়। এবং এএফসির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের যোগ্য বলে মনে করে। সুব্রত নাগের সঙ্গে ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ৩১ মে ২০২০ সালের পর থেকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে কোয়েসের আর কোনও সম্পর্ক থাকবে না।

- Advertisement -

তার ভিত্তিতেই ইস্টবেঙ্গলের দাবি, যেখানে কোয়েসের অন্যতম ডিরেক্টর এবং পদস্থ কর্তা এই কথা বলে গিয়েছেন এবং তা মিনিটস করা হয়েছে, তাহলে তারই ভিত্তিতে যেন ফেডারেশন ধরে নেয়, তাদের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের আর কোনও সম্পর্ক নেই। ক্লাবই এখন থেকে ফুটবল দলের মূল অভিভাবক। ঘটনা হল, এর আগেই লাইসেন্সিং এবং কোম্পানির বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চেয়ে কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসির সব ডিরেক্টরকে চিঠি দিয়েছিল ফেডারেশন। যেখানে এও বলা হয়, যদি নতুন কোনও কোম্পানি তৈরি হয় তাহলে নিয়মমাফিক সেটা করার আগে তার বিস্তারিত বিবরণ ফেডারেশনকে জানাতে হবে। সেই বিষয়ে ক্লাবের অন্যতম ডিরেক্টর সৈকত গঙ্গোপাধ্যায়ের চিঠি যায় এআইএফএফের কাছে। যেখানে বলা ছিল, দ্রুত আপনাদের সব জানানো হচ্ছে। সেই উত্তর বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিছুই ক্লাব জানাতে পারেনি। তারপরেই এই চিঠির অবতারণা। এই চিঠি পাওয়ার পর ফেডারেশনের তরফে আবার কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসির সব ডিরেক্টরকে একটি করে চিঠি পাঠানো হয়। যেখানে ফের কোম্পানির অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়।

এও বলা হয়, কিংফিশারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার আগেই ফেডারেশনকে সেটা জানিয়ে কোয়েসের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারটা বলা হয়। মূলত, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি তার ফুটবলারদের বেতন থেকে যাবতীয় দায়বদ্ধতা ঠিকঠাক পালন করেছে কিনা এবং যদি কিছু বাকি থাকে সেই দায় নতুন কোম্পানি নেবে কি না সেসব বিষয়ে স্বচ্ছতা রাখতেই এই বিষয়গুলি জানাতে হয়। বিশেষ করে দায়ভার যেন ফেডারেশন বা এএফসির ঘাড়ে এসে না পড়ে, সেটাও দেখা হয় এই নিয়মের মাধ্যমে। এবং ফেডারেশনের এই চিঠি পাঠনোতেই ফের বিপাকে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল। এই চিঠি যাওয়ার পর সেদিনই ফের অজিত আইজ্যাক তাঁর উত্তর পাঠিয়ে দেন। যেখানে বলা হয়েছে, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে তাদের কোম্পানির সম্পর্কের বিষয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তার নিষ্পত্তির জন্য কথাবার্তা চলছে। কিন্তু সেটা শেষ হয়ে যায়নি। তাই যতদিন না নিষ্পত্তি হচ্ছে ততদিন এই কোম্পানি বহাল থাকছে।

এই চিঠির পর আর ফেডারেশনের পক্ষেও যেমন কোনও দায় নেওয়া সম্ভব নয়, তেমনি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবেরও চুপচাপ বসে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। তবে ১০ জুলাই থেকে ফেডারেশন লাইসেন্সিংয়ে কাগজপত্র পাঠাতে শুরু করবে। যা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ থাকবে সম্ভবত এই মাসের শেষদিক পর্যন্ত। এই কাগজপত্র যাবে কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসি নামেই। আগেই ফেডারেশন কর্তারা জানিয়েছিলেন, যদি কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসির তরফে লাইসেন্সিংয়ে কাগজপত্র জমা পড়ে তাহলে এই বছরও পুরোনো নামে খেলতে কোনও সমস্যা হবে না। কারণ এই নামেই নথিভুক্ত ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সেটা না হলে নতুন পরিচয় কী হবে বা আদৌ এই সময়ে মধ্যে হবে কিনা এখন তার উত্তর দেওয়ার জায়গায় অন্তত লাল-হলুদের তরফে কেউ নেই। এর উত্তর জানেন একমাত্র অজিত আইজ্যাক এবং তাঁর কোম্পানির বাকি ডিরেক্টররাই।