লাল-হলুদে প্রাক্তনদের মুখে কর্তাদের ভাষা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বটেই, এমনকি বিনিয়োগকারির সঙ্গেও কথা বলতে পারেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলাররা। একইসঙ্গে আইনি রাস্তা খোলা রাখার কথাও উঠে এল তাঁদের বক্তব্যে।

এর আগেরদিন ক্লাবের লেটারহেডে সই করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সমালোচনা হওয়াতেই সম্ভবত এদিন প্রাক্তনদের পক্ষে সুকুমার সমাজপতি ও চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য প্রচার করা হল সাদা কাগজে। এবং মুখে চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় যতটা আক্রমনাত্মক বিবৃতি দিলেন, কাগজে-কলমে সেই সুর অনেকটাই নরম। তবু মোটামুটিভাবে ঘন্টাখানেকের আলোচনার পর অবশ্য ক্লাব যে চুক্তিতে সই করবে না, সেটা আবার প্রাক্তনদের মুখ থেকে বলিয়ে নেওয়া হল।

- Advertisement -

কিন্তু চুক্তিতে সই না করেও বিনিয়োগকারিরা দলগঠন এবং ক্লাবের জন্য অর্থ লগ্নি করে যান, এটাও চাওয়া হল প্রাক্তনদের তরফে। অর্থাৎ ক্লাব কর্তারা নিজেরা যেটা চাইছেন, তাতেই শিলমোহর দিলেন প্রাক্তনদের একাংশ। তবে এদিনের বৈঠকে আসেননি মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, গৌতম সরকার, সমরেশ চৌধুরিদের মতো ক্লাবের প্রকৃত ঘরের ছেলেরা। আগেরদিন মনোরঞ্জন বলে যান, চুক্তিতে কী আছে না আছে, সেটা আইনজ্ঞদের ব্যাপার। কিন্তু ক্লাবের আইএসএলে যোগদান নিশ্চিত করা উচিত।

এদিনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, খসড়া চুক্তি করার সময়ে ক্লাব কর্তাদের আরও যত্নবান হওয়া উচিত ছিল। এটা একেবারেই একপেশে চুক্তি। যেকোনও চুক্তিতে উভয়পক্ষের বিচ্ছেদের সুযোগ থাকা উচিত। যা এই চুক্তিতে নেই। এছাড়া চুক্তির অনেক ধারা শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের ঐতিহ্যের পরিপন্থী। যেমন ক্লাব তাঁবু, মাঠ, লোগো প্রভৃতি চিরতরে হস্তান্তর করে দিতে হবে, যা কোনওদিন আর ক্লাবের কাছে ফেরত আসবে না… এটা মেনে নেওয়া যায়?

এছাড়াও বিনিয়োগকারিদের যে দলগঠন করে আইএসএলে খেলতে কোনো বাধা নেই খসড়া চুক্তির ফলে, সেই কথাও বলা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁদের দলগঠনের কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে। সবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং তাঁর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। ক্লাব কর্তারা এদিনও সেই দলগঠনের উপরেই জোর দিচ্ছেন। গত বছর খসড়ার উপর ভিত্তি করে আইএসএল খেলা গেলে কেন এবার যাচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন।

তবে দেবজিৎ ঘোষ বেড়িয়ে যাওয়ার সময়ে কিছুটা হলেও বিনিয়োগকারিদের পক্ষে কিছু কথা বলে গেলেন, চুক্তি দেখে আমাদের মনে হয়েছে, অনেকটাই পার্থক্য আছে দুটো চুক্তির মধ্যে। এরইমধ্যে ক্লাবের আইএসএলে খেলাও নিশ্চিত করতে হবে। আবার বিনিয়োগকারিরা গত মরশুমে যে টাকা বিনিয়োগ করেছেন সেটাও যাতে জলে চলে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখা দরকার। তাই একটা মধ্যস্থতায় আসাটা খুব জরুরি। আর শেষপর্যন্ত আইনি পথ তো খোলাই থাকল।

তবে এতকিছুর পরেও বিনিয়োগকারিরা অবশ্য এই যুদ্ধে অনড় মনোভাবই দেখাচ্ছেন। এদিনের এই সভার পরেও তাঁদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, চুক্তিতে সই না হলে একটা টাকাও আর লগ্নি করা হবে না। এবং তাঁরা আশাবাদী, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে কোনও অন্যায় অনুরোধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কান দেবেন না।