শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে বৈঠক বসতে চান লাল-হলুদ কর্তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়ে চিঠি দিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।

এখনও চুক্তিপত্রে সই করেননি ক্লাবকর্তারা। দুবাই ফিরে গিয়েছেন হরিমোহন বাঙ্গুরও। তবে যাওয়ার আগে নিজের কলকাতা অফিসের কর্তাদের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন, কোনওভাবেই যেন চুক্তিপত্রে কোনও পরিবর্তন না করা হয়। খসড়া চুক্তিতে যা আছে, তা অপরিবর্তিত রেখেই সই করতে হবে ক্লাবকর্তাদের। আর তা যদি না হয়, তাহলে শেষপর্যন্ত চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে যাবে তাঁর কোম্পানি। এরমধ্যেই কাহানি মে টুইস্ট-এর মতো এদিন এসসি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে ক্লাবসূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, বাঙ্গুরগোষ্ঠীর কর্তাদের সঙ্গে বসতে চেয়েছেন তাঁরা। অনেক আগেই এই প্রস্তাব এসেছিল বিনিয়োগকারীদের তরফে। সেসময় বিষয়টিকে আমল দেননি ক্লাবকর্তারা। তবে হঠাৎই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের শেষের দিকে তাঁদের রাজি হওয়া নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি।

- Advertisement -

এই ঝামেলার মাঝে পড়ে কাহিল অবস্থা ফুটবলারদের। গত মরশুমে দলে থাকা কিছু ফুটবলার চাইছেন লাল-হলুদে থেকে যেতে। পারিবারিক ও অন্যান্য কারণেই তাঁদের কলকাতায় থাকার ইচ্ছে। কিন্তু আদৌ এই বিনিয়োগকারীরা থাকবেন কি না, সেই ধন্দ্ব কাটছে না তাঁদেরও। ফলে অনেকেই খোঁজখবর করতে শুরু করেছেন, কী হতে চলেছে তাঁদের ভবিষ্যৎ। এঁদের অনেকেই চাইছেন, অন্তত প্রি-কনট্রাক্ট করে রাখা হোক তাঁদের সঙ্গে। এক ফুটবলারের মন্তব্য, আমাদের ভবিষ্যতের কথা কেউ ভাবছেন না। অন্তত প্রি-কনট্রাক্ট করে রাখলে নিজেরা স্বস্তি পেতাম। ইস্টবেঙ্গলে খেলব বলেই তো গতবার এখানে সই করি। এবারও থেকে যেতে চাইছি। কারণ কলকাতায় থাকলে আমার সুবিধা হয়। কিন্তু চুক্তি নিয়ে ব্যপারটা কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটাই বুঝতে পারছি না। তাছাড়া বিনিয়োগকারীরা যদি সত্যিই চলে যায়, তাহলে তো বিপদে পড়ব আমরাই। আরেক ফুটবলার জানালেন, যত দেরি হবে, ততই দলগঠনের কাজ ঠিকঠাক হবে না। অন্যান্যরা দল গুছিয়ে নেবে, আমরা পিছিয়ে থাকব। তাছাড়া বিনিয়োগকারীরা চলে গেলে আদৌ এই ক্লাবে আর খেলা হবে কি না আমাদের, তাও তো বুঝতে পারছি না।

তবে ফুটবলারদের এই দুশ্চিন্তার অবসান ঘটার এবং গোটা সমস্যা সমাধানের একটা সোনালী রেখা দেখা যাচ্ছে ক্লাবকর্তাদের দেওয়া এই চিঠিতে। যদিও বিনিয়োগকারীদের তরফে দলের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্তা শ্রেণিক শেঠ জানালেন, আমি এখনও কোনও চিঠি পাইনি। ওরা কার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জানি না। বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে দেখব। হয়তো এই চিঠি শেষ পর্যন্ত তাঁদের কাছে পৌঁছোলে সমস্যার যে প্রাচীর তৈরি হয়েছে তা সরে যেতে পারে।