দুর্বল বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে জিততে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : পরের ম্যাচে জয়ই শুধু নয়, প্লে অফে যাওয়ার আশা এখনও করছেন রবি ফাওলার। আর সেখানে টানা আট ম্যাচে জয়হীন বেঙ্গালুরু এফসিও পুরো পয়েন্ট তুলে নিতেই নামছে মঙ্গলবার। বলতে গেলে, এই ম্যাচের জয়ই দুই দলের কাছে প্লে অফের আশা জিইয়ে রাখার শেষ সুযোগ করে দিতে পারে।

 

- Advertisement -

মোটামুটি পয়েন্টের হিসাবে দুই দলই সমান জায়গায় দাঁড়িয়ে। ভারতীয় ফুটবলে আত্মপ্রকাশের পর থেকে সুনীল ছেত্রীদের এরকম অবস্থা এর আগে কখনও হয়নি। টানা আট ম্যাচে জয় নেই। তার মধ্যে পাঁচ ম্যাচে হার। ভারতীয় দলের অধিনায়কের থাকাই যেখানে বাড়তি উদ্দীপনার সঞ্চার করতে পারে দলের মধ্যে সেখানে কাগজে কলমে রীতিমত ওজনদার একটা দল লিগ তালিকার সাত নম্বরে থাকবে, এমনটা কার্লোস কোযাদ্রাদ বিদায়ের পরেও বোঝা যায়নি। ১৪ ম্যাচে মাত্র ১৫ পয়েন্টই শুধু নয়, ১১ ম্যাচ ক্লিন শিট থাকেনি। খালিদ জামিল দায়িত্ব নিয়ে যখন ফুল ফোটাচ্ছেন তখন নৌসাদ মুসার কাছে পরিস্থিতি যথেষ্টই উদ্বেগজনক।

মুসা যদিও বলেন, লিগ টেবিল দেখে যেমন মনে হচ্ছে অবস্থা ততটাও খারাপ নয়। পয়েন্টের ব্যবধান অনেকটাই কম চার নম্বরে থাকা দলের কাছ থেকে। একটা জয়ই সবকিছু বদলে দিতে পারে। তবে তার জন্য আমাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। বেঙ্গালুরু এফসি এই ম্যাচে এরিক পার্তালু ও হুয়ানন, দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকেই পাচ্ছে না। তবে এরপরেও বেঙ্গালুরু এফসির মতো দল যে বেগ দিতে পারে সেটা মাথায় রাখছেন ফাওলার। বললেন, বড়ো দল বেঙ্গালুরু। এর আগে কখনও এরকম পরিস্থিতিতে পড়েনি। তাই ওরা এখন আহত পশুর মতো। আর আহত পশু সবসময়ই বিপজ্জনক।

এসসি ইস্টবেঙ্গলের অবস্থা অবশ্য আরও খারাপ। রবি ফাওলারের দল রয়েছে দশ নম্বরে। তবে এরপরেও মুখে হারছেন না ব্রিটিশ কোচ। তিনি জানিয়ে দিলেন, আমরা প্রতিটি ম্যাচ জিততে মাঠে নামি। এখন লক্ষ্য পরের ম্যাচটাই জেতা। অঙ্কের হিসাবে এখনও প্লে অফে যাওয়ার রাস্তা খোলা রয়েছে। ৬ ম্যাচ এখনও বাকি। তবে অবশ্যই খেলার ফলাফল আমাদের পক্ষে যেতে হবে।

তাঁর দল প্রায় সব ম্যাচেই সেট পিস থেকে গোল খেয়ে চলেছে। এখানেও ফাওলারের লক্ষ্য সেই রেফারিই। তাঁর কথায়, আমাদের দিক থেকে কোনও ভুল হচ্ছে না। সমস্যাটা তৈরি করছেন রেফারি। তথ্য যেমন দেখাচ্ছে আমরা ততটাও খারাপ দল নই। কোচ হিসাবে আমি ফুটবলারদের বক্সের আশপাশে প্রতিপক্ষের বেশি কাছে না যাওয়র কথা বলতেই পারি। কারণ ওই জায়গায় ফুটবলাররা ফাউল আদায় করতে চেষ্টা করে। এমনকি কিছু ফুটবলার আছে যারা রেফারিদেরও প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। আগের ম্যাচেই বিশ্রী খেলেছেন নির্ভরযোগ্য অ্যান্থনি পিলকিনটন। শুরুর দুই ম্যাচের পর থেকে আলো জ্বালতে ব্যর্থ ব্রাইট এনুবাখারেও। একমাত্র আশার আলো দেবজিৎ মজুমদারের দুই বিশ্বস্ত হাত।

 

  • মুখে যাই বলুন না কেন, কোচ নিজেও জানেন এই মরশুমে তাদের আর আশা নেই। তাই নানা সমস্যায় জর্জরিত এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ এখন থেকেই আগামী মরশুমের পরিকল্পনাও শুরু করে দিয়েছেন। এদিনও যেমন মুম্বই সিটি এফসি থেকে এসসি ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিলেন সৌরভ দাশ ও সার্থক গোলুই। দুজনেই এর আগে মোহনবাগানে খেলেছেন।