কয়লা ধর্মঘটে ৩০ কোটি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা ইসিএলের

277

আসানসোল: দেশজুড়ে তিনদিনের কয়লা শিল্প ধর্মঘটের কিছুটা হলেও প্রভাব পড়ল কোল ইন্ডিয়ার অন্যতম কয়লা উৎপাদন সংস্থা ইসিএলে। গত বৃহস্পতিবার ছিল ধর্মঘটের প্রথম দিন। সেদিন অনেকটাই ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছিল ইসিএলে। পরের দুদিন অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবার ধর্মঘটের প্রভাব অনেকটাই কমে বলে ইসিএলের তরফে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধর্মঘট ৫০ শতাংশ সফল হয়েছিল। শুক্রবার ও শনিবার ধর্মঘট প্রভাবের শতাংশের হারটা অনেকটাই কমে আসে। তিনদিনের এই ধর্মঘটে ৩০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে ইসিএল কর্তৃপক্ষ। প্রথম দুদিনের প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শনিবার রাতের পরে ক্ষতির মোট পরিমাণ জানা যাবে।

ইসিএলের সিএমডি টুপিএ বা কারিগরি সচিব নিলাদ্রি রায় বলেন, ঝাড়খণ্ডের রাজমহল প্রোজেক্ট ও এসপি মাইন্সে তিনদিনের ধর্মঘটের ভালো রকমের প্রভাব পড়েছে। আসানসোল ও রানিগঞ্জের কয়লাখনিগুলিতে ধর্মঘটের আংশিক প্রভাব পড়েছে। ইসিএল কর্তৃপক্ষের মতে, স্বাভাবিক ভাবে প্রতিদিন ইসিএলে ১.০৫ থেকে ১.১০ লক্ষ মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন হয়ে থাকে। ধর্মঘটের কারণে প্রথম দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন হয়েছে। যা স্বাভাবিক উৎপাদনের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয়দিন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টন কয়লা উৎপাদন হয়েছে।

- Advertisement -

ঝাড়খণ্ডের ইসিএলের কয়লাখনিগুলি বাদ দিলে অন্যগুলি থেকে ধর্মঘটের সময় মোট উৎপাদনের কমবেশি হলেও কয়লা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধর্মঘট সত্ত্বেও খনি শ্রমিকদের হাজিরা ছিল ৬১ শতাংশ। শুক্রবার ও শনিবার সেই হাজিরার বেড়ে হয় ৬৮ শতাংশে। ইসিএল থেকে যেসব থার্মাল পাওয়ার বা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গুলিতে কয়লা সরবরাহ করা হয় সেইসব থার্মাল পাওয়ার গুলিতে আগামী ৭০ থেকে ৮০ দিনের কয়লা মজুত রয়েছে। ফলে এই কয়লা শিল্পের ধর্মঘটে বিদ্যুত উৎপাদনে কোনও প্রভাব পড়বে না। বিদ্যুতের কোথাও কোনও ঘাটতি হবে না।

তবে এই ধর্মঘট ডাকা কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের ডাকা ধর্মঘট ১০০ শতাংশ সফল হয়েছে। সিটু কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরি ও এআইটিইউসির রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ আরসি সিং বলেন, শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘট সফল করেছেন। কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ভয় দেখিয়ে, বিভ্রান্ত করেও কাজে যোগ দেওয়াতে পারেনি। আমাদের দাবি মানা না হলে, আগামীদিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।

উল্লেখ্য, কয়লা শিল্পে ১০০ শতাংশ বিলগ্নিকরণ, কমার্শিয়াল মাইনিংয়ের নামে নিলামের মাধ্যমে ৫০০টি কোল ব্লক বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ বা বিএমএস, সিটু, আইএনটিইউসি, টিইউসি, এআইটিইউসি ও হিন্দ মজদুর সভা বা এইচএমএস ও তাঁদের যৌথ মঞ্চ জ্যাক বা জয়েন্ট এ্যাকশান কমিটি তিনদিনের কয়লা শিল্পে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। যদিও রাজ্যের শাসক দল তৃনমুল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি ইস্যুগুলিতে সমর্থন করলেও, এই ধর্মঘটের বিরোধিতা করে।