উত্তরবঙ্গের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘিরে তৈরি হবে ইকো সেনসেটিভ জোন

949

জলপাইগুড়ি :  উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জাতীয় উদ্যান এবং অভয়ারণ্যে ইকো সেনসিটিভ জোনের সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। জলপাইগুড়ি জেলার চাপরামারি অভয়ারণ্য, কালিম্পং জেলার নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যান, দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যান ও সিঞ্চল অভয়ারণ্য এবং আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ইকো সেনসিটিভ জোন ( ইএসজেড)  তৈরির জন্য  মনিটরিং কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চাপরামারি অভয়ারণ্যে  নির্দিষ্ট করা নদী,জঙ্গল,চা বাগান ঘেরা ইএস জোনের ২ কিমি এলাকার মধ্যে পরিবেশবিরোধী কোনো কাজ করা যাবে না। এই ২ কিমি এলাকার মধ্যে কাঠপাচার, বেআইনিভাবে জঙ্গল কাটা যাবে না। কোনো হোটেল, রিসর্ট করা যাবে না নতুন করে। চাপরামারির বন্যপ্রানী, জঙ্গল , জলাশয় যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য পরিবেশবিরোধী কোনো শিল্প, করতে দেওয়া যাবে না।এই জোন সংলগ্ন মাটিয়ালি ও নাগরাকাটার গ্রাম,চা বাগান থেকে যাতে কোনও দূষন না ছড়ায় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

নেওড়া ভ্যালী জাতীয় উদ্যানের জঙ্গল এখনও ভার্জিন ফরেস্ট। তাই এখানে ইকো জোন লাগোয়া আলগাড়া, পেডং, গোরুবাথান, তোদে, তাংতা, ঋষি,  রংপোর মতো গ্রাম ও শহরগুলির উপর নজর রাখতে হবে। জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে ইকো সেনসিটিভ জোনের চারপাশে ৬১ টি গ্রাম ও চা বাগান রয়েছে। হাতির অনেক করিডর রয়েছে। তাই জলদাপাড়ার ৫ কিমির মধ্যে পরিবেশবিরোধী কোনো কাজ করা যাবে না। সিঞ্চল অভয়ারণ্যে পাশে জোরবাংলো, মংপু, সোনাদার মতো অনেক গ্রাম, চা বাগান রয়েছে। সিঞ্চলের ০.৫ কিমির মধ্যেও কিছুই করা যাবে না। সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যানটি সিকিম, দার্জিলিং, নেপাল সীমান্ত ঘেরা। এখানকার ১ কিমি র মধ্যে পরিবেশ হানিকর কিছুই করা যাবে না। শ্রীখোলা, গুরদুম, রাম্মাম, রিতু জায়গাগুলির উপর কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইকো সেনসিটিভ জোনের জেলা স্তরের প্রস্তাবিত মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান থাকবেন জেলাশাসক। ওই এলাকার বনাধিকারিক, দূষন নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রতিনিধি, কৃষি, মৎস্য, ইকোলজি দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি একজন করে কমিটিতে থাকবেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মনোনিত একজন প্রতিনিধি থাকবেন। দ্রুত এই কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইকো সেনসিটিভ জোন সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

বন দপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান বনপাল ( উত্তরবঙ্গ) বিপিন সুদ জানান,  গোরুমারা বাদে বাকি জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যের ইকো সেনসেটিভ জোন সংক্রান্ত  গেজেট নোটিফিকেশন বেরিয়েছে। গোরুমারা জাতীয় উদ্যানের ইকো সেনসিটিভ জোনের বিজ্ঞপ্তি শীঘ্রই বের হবে। তারপর জেলা শাসকদের চিঠি পাঠানো হবে। ইকো সেনসিটিভ জোন মনিটরিং কমিটি গঠন করে কাজ করা হবে।

ছবি ও তথ্য- পূর্ণেন্দু সরকার