নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের নোটিস পাঠাল ইডি

289

অনলাইন ডেস্ক: নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের সম্পত্তির তথ্য চেয়ে নোটিস পাঠাল ইডি। সূত্রের খবর, শোভন চট্টোপাধ্যায় বাদে বাকি ১২ অভিযুক্তকে ইমেল মারফত নোটিস পাঠিয়েছে ইডি। ৭ বছরের সম্পত্তির হিসেব চেয়ে তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের পরিবারের লোকেদের সম্পত্তির তথ্যও জানতে চেয়েছে ইডি।

৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি, আয় সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।শোভনের বিষয়ে ইডির দাবি, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের থেকে আগেই এই তথ্য মিলেছে। তাই তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়নি। তবে সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মুকুল রায় ও শুভেন্দু জানিয়েছেন, তাঁরা কোনও নোটিস পাননি। তবে আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দার এবিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। অবশ্য ফিরহাদ হাকিম জানান, ইডির নোটিস পেয়েছি। প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তদানীন্তন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ বিষয়ক পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিং এক সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের সামনে একটি ভিডিও টেপ চালিয়ে দেখান। সেই টেপটিতে কলকাতা পুরসভার বর্তমান মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম, রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, সংসদ সুলতান আহমেদ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসূন ব্যানার্জি, অধ্যাপক সৌগত রায়, তৃণমূলের খানাকুলের বর্তমান বিধায়ক তথা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র ইকবাল আহমেদ সহ এক ঝাঁক তৃণমূল সাংসদ মন্ত্রীদের শিল্পপতির বেশ ধরে আসা সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলের কাছ থেকে বান্ডিল বান্ডিল নোট নিতে দেখা গিয়েছিল।

পরবর্তী পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশক্রমে ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব হাতে তুলে নেয় সিবিআই। ওই নারদ কান্ড তদানীন্তন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের নাম করে নোটের বান্ডিল নিতে দেখা গিয়েছিল তদানীন্তন বর্ধমানের পুলিশ সুপার এসএমএইচ মির্জাকে। সিবিআইয়ের সঙ্গে ওই নারদ কাণ্ডে মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট অনুসারে ওই ঘটনার পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে এনফর্সমেন্ট ডাইরেকটোরেট। সিবিআই ও ইডির পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বেশ কয়েকবার ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুধুমাত্র রাজ্য ক্যাডারের আইপিএস অফিসার এসএমএইচ মির্জাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সিবিআই এর পক্ষ থেকে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন বর্তমান ও প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করবার জন্য লোকসভার অধ্যক্ষ ও রাজ্যসভার ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল।এনফোর্সমেন্ট ডাইরেকটরেট সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যায়, এসবের মধ্যে তারা আপাতদৃষ্টিতে চুপ করে আছে বলে মনে করা হলেও, তলে তলে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। গোপনে তদন্ত চালিয়ে তারা ওই নারোদা কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামে-বেনামে সম্পত্তির একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে ফেলে।

এরপরই তারা এবার নোটিস পাঠিয়ে নারদ কাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিগত সাত বছরে তারা কি কি সম্পত্তি করেছেন তার একটা বিস্তারিত তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন। যাতে তারা তাদের তৈরি তালিকার সঙ্গে নারদ কান্ড জড়িতদের পাঠানো সম্পত্তির তালিকা মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন। আর সেটা তারা করতে চলেছেন, ওইসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির সংক্রান্ত আইনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করতেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার বিরুদ্ধেও হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, নারদ কান্ডটি যে সময় ঘটেছিল সেসময় বর্তমান বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ম্যাথু স্যামুয়েলের পেশ করা ভিডিও ফুটেজে অবশ্য মুকুলবাবুকে তার কাছ থেকে হাতে করে টাকা নিতে দেখা যায়নি। এছাড়া ম্যাথু স্যামুয়েল নিজেও সে কথা সিবিআইকে বলেননি। তিনি সিবিআইকে জানিয়েছিলেন, মুকুল রায়ের নাম করে তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন আইপিএস অফিসার এসএমএস মির্জা। মির্জার হাতে তিনি সেই টাকা তুলে দিয়েছিলেন বর্ধমানের পুলিশ সুপারের বাংলোতে। এছাড়াও ম্যাথুকে একাধিকবার মির্জার বাড়িতে ও সপরিবারে রাজারহাটের একটি নামী রেস্তোরায় খাবার খেতেও দেখা যায়।

সিবিআই ও ইডির কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ম্যাথু স্যামুয়েল জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য স্ট্রিং অপারেশনের সমস্ত টাকাই তাঁকে যোগান দিয়েছিলেন তদানীন্তন তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য কেডি সিং। মুকুল রায়ের মতই কেডি সিংও পরবর্তী পর্যায়ে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেন। সিবিআই সূত্রে পাওয়া খবরে অবশ্যই জানা যায়, কেডি সিং ম্যাথু স্যামুয়েলকে ওই টাকা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন।