চিটফান্ড কর্তাদের সম্পত্তিতে নজর, ফের তদন্ত শুরু করল ইডি

876

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : বেআইনি অর্থলগ্নিকারী সংস্থা নিয়ে ফের সক্রিয় হচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অফিস খুলে কোটি কোটি টাকা তুলে ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়া প্রায় এক ডজন বেআইনি অর্থলগ্নিকারী সংস্থার কর্তাদের সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে খোঁজখবর শুরু করেছে ইডি। জেলা পুলিশের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করেছে তারা। তাদের নজরে রয়েছে উত্তরবঙ্গের অর্থলগ্নিকারী সংস্থার ১৮ জন ডিরেক্টর ও এজেন্ট। নামে-বেনামে ওই ১৮ জনের কোথায় কোথায় সম্পত্তি রয়েছে, গত কয়েক বছরে তার মধ্যে কোন কোন সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে, বর্তমানে সম্পত্তিগুলোর কী অবস্থা- তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে ওই কেন্দ্রীয় সংস্থা। সূত্রের আরও খবর, চিটফান্ড নিয়ে আন্দোলনকারী একাধিক সংগঠনের নেতাদের ডেকে তাঁদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছেন ইডির আধিকারিকরা।

যদিও রাজ্য পুলিশের কর্তাদের দাবি, তাঁরা এই সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানেন না। উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, বেআইনি অর্থলগ্নিকারী সংস্থা নিয়ে বেশ কিছু মামলা চলছে। আমরা আইন মেনে সেইসব মামলায় কাজ করছি। তবে ইডির বিষয়ে কোনও তথ্য জানা নেই। কোচবিহারের পুলিশ সুপার সন্তোষ নিম্বলকর বলেন, ওই ধরনের কোনও খোঁজখবরের বিষয়ে আমার জানা নেই।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গে বেআইনি অর্থলগ্নিকারী সংস্থার সবথেকে বড় ঘাঁটি ছিল কোচবিহার। শুধু কোচবিহার শহরেই একসময় শতাধিক বেআইনি অর্থলগ্নিকারী সংস্থার সদর দপ্তর ছিল। আলিপুরদুয়ার, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, মালদাতেও অফিস বানিয়ে ব্যবসা করেছিল বিভিন্ন সংস্থা। ইতিমধ্যেই অলংকার ব্যবসার নামে প্রতারণার ফাঁদ পাতা কোচবিহারের নিশিগঞ্জ এলাকার দুই ভাইয়ের বহু বেনামী সম্পত্তির হদিস পেয়েছেন তদন্তকারীরা। কোচবিহার পুলিশলাইন এলাকার এক কারবারির নামে শহরে থাকা বেশ কয়েকটি বড় সম্পত্তির হাতবদল কীভাবে হল, কারা সেই সম্পত্তি কিনলেন, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে তদন্তকারীদের মনে। ময়নাগুড়ির বাসিন্দা এক ভুঁইফোঁড় সংস্থার এমডির চা বাগান, একাধিক ফ্ল্যাট, জমি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। দিনহাটার বাসিন্দা আরেকটি সংস্থার এমডির প্রায় কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন সেই সম্পত্তি কোথা থেকে করলেন সেই ব্যক্তি, তা জানতে নোটিশ পাঠাতে পারে ইডি। মালদার গাজোলের এক ভুয়ো অর্থলগ্নিকারী সংস্থার কর্তার সম্পত্তিও তদন্তকারীদের নজরে আছে বলে জানা গিয়েছে। রায়গঞ্জ শহর এবং কালিয়াগঞ্জের দুই অর্থলগ্নিকারী সংস্থার এজেন্টের উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রোজভ্যালি, রয়্যাল, র‌্যামেল ও অ্যাঞ্জেল গ্রুপের কয়েকজন বড় এজেন্টের বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ নিয়ে তথ্য জোগাড় করছেন তদন্তকারীরা।

ইতিমধ্যেই ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারপরই বেআইনি অর্থলগ্নিকারী সংস্থা নিয়ে ফের কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয় হওয়ার খবরে রাজনৈতিক যোগ দেখছেন কেউ কেউ। কারণ, বিস্ময়কর হারে সুদ বা কয়েক মাসে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে চম্পট দেওয়া বেআইনি অর্থলগ্নিকারী সংস্থার অনেক এমডি, ডিরেক্টর বা বড় এজেন্টই বর্তমানে রাজ্যের শাসকদলের ছত্রছায়ায় রয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের কেউ কেউ আবার ঘটা করে সভা করে ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। ভোটের মুখে তাঁদের উপর চাপ বাড়াতেই কেন্দ্রীয় সংস্থা সক্রিয় হয়েছে বলেই অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের।  চিটফান্ড কর্তাদের তৃণমূলের উত্তরবঙ্গ কোর কমিটির আহ্বায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি পরিকল্পনামাফিক মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। প্রতারিত আমানতকারীদের ন্যায় দিতে যে কোনও এজেন্সি তদন্ত করতেই পারে। তবে বিজেপি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেই চলেছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা বলেন, ইডি যদি তদন্ত করে তাতে তৃণমূল ভয় পাচ্ছে কেন? ওদের ভয় প্রমাণ করে দেয়, ওরাই চিটফান্ডের টাকা খেয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের মতো করে তদন্ত করবে। সেই তদন্তের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।