জরাজীর্ণ ভবন-নিম্নমানের মিড-ডে মিল, বেহাল ভারতের স্কুল শিক্ষা

166

নয়াদিল্লি : গত সাত দশকে স্কুলের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে ভারতে। মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে বইয়ের ব্যবস্থা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। নিরক্ষরতার ছায়া অনেকাংশে কেটেছে। এত কিছুর পরেও সামগ্রিকভাবে স্কুল শিক্ষার মানের উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা রিপোর্ট। জাতীয় শিশু অধিকার সংরক্ষণ কমিশনের (এনসিপিসিআর) সমীক্ষাতেই দেশের স্কুল শিক্ষার বেহাল ছবিটা ধরা পড়েছে। ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২০১টি জেলায় ২৬,০৭১টি সরকারি, বেসরকারি স্কুলে ২ বছর ধরে চলা ওই সমীক্ষায় ২২ শতাংশের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবনগুলির বেহাল দশা সামনে এসেছে। জরাজীর্ণ, ফাটল ধরা বাড়িতে ক্লাসরুম। অনেক জায়গায় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো, পাখা নেই। এখনও অন্তত এক-চতুর্থাংশ স্কুলে শৌচালয় জলহীন। সমীক্ষাটি হয় উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, রাজস্থান, ওডিশা, মিজোরাম, মেঘালয়, উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড ও চণ্ডীগড়ে। রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি ৫টি স্কুলের মধ্যে একটি রেললাইনের খুব কাছে অবস্থিত। এর ফলে পড়ুয়া, শিক্ষক সকলের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকে। বহু স্কুলে পরিকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, সাইবার সুরক্ষা, রান্নাঘরে স্বাস্থ্যবিধির বড্ড অভাব। স্কুলের অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অনুকূল নয়। মিড-ডে মিলের মান নিয়ে সমীক্ষায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, ৫৪ শতাংশ স্কুলে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয় না।

এনসিপিসিআরের চেয়ারম্যান প্রিয়াঙ্কা কানুনগোর বক্তব্য, সমীক্ষায় স্কুল শিক্ষায় কিছু ইতিবাচক, আবার বেশ কয়েকটি নেতিবাচক দিক উঠে এসেছে। এখন অধিকাংশ স্কুলে ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা শৌচালয় রয়েছে। খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পে পড়ুয়াদের খেলার সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রন্থাগারের অবস্থা ভালো নয়। কোনও স্কুলে গ্রন্থাগার থাকলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে প্রায় আর কোনও বই চোখে পড়েনি। মাত্র ৩৯ শতাংশ স্কুলের গবেষণাগারে আদর্শ পরিকাঠামো রয়েছে। লকডাউনের কারণে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন প্রায় ৪ মাস বন্ধ। বেসরকারি স্কুলগুলি ভিডিও কনফারেন্সে পড়াশোনার ব্যবস্থা করলেও সরকারি স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন প্রায় স্তব্ধ। রিপোর্টে মূলত লকডাউন পূর্ববর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড়ো ফাঁক স্পষ্ট হয়েছে সমীক্ষা রিপোর্টে। কয়েকদিন আগে সেন্টার স্কোয়ার ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি স্কুলগুলিকে নিয়ে সমীক্ষা করে। স্টেট অফ দ্য সেক্টর শিরোনামে প্রকাশিত ওই সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে ১২ কোটির বেশি শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। যা দেশের মোট স্কুল পড়ুয়ার প্রায় ৫০ শতাংশ। উন্নতমানের শিক্ষা ও ইংরেজি শেখার সুযোগ পাওয়ার আশায় অভিভাবকরা মোটা টাকা খরচ করে ছেলেমেয়েদের ওইসব স্কুলে ভর্তি করেন। কিন্তু সব বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার মান আশানুরূপ নয়। দিল্লিভিত্তিক সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার বেসরকারি স্কুলগুলিতে পঞ্চম শ্রেণির ৬০ শতাংশ পড়ুয়া অঙ্কের সাধারণ সমস্যারও সমাধান করতে পারেনি। পঞ্চম শ্রেণির ৩৫ শতাংশ পড়ুয়া দ্বিতীয় শ্রেণির একটি অধ্যায় পড়তে হিমসিম খেয়েছে। ৮ থেকে ১১ বছর বয়সি মাত্র ৫৬ শতাংশ ছাত্রছাত্রী দ্বিতীয় শ্রেণির অধ্যায় সহজে পড়তে পেরেছে।

- Advertisement -