জাতীয় সড়ক প্রকল্পে চিনা সংস্থাকে বাদ দেওয়ার তোড়জোড়

277

নয়াদিল্লি : লাদাখের ঘটনায় চিনকে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে চাপ দিয়ে চলেছে ভারত। এবার অর্থনৈতিক পথে বেজিংয়ের মাথাব্যথা বাড়ানোর পথে হাঁটতে শুরু করেছে মোদি সরকার। টেলিকম ও রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে চিনা সংস্থাগুলিকে বরাত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। এবার জাতীয় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পগুলির কাজেও চিনা সংস্থাগুলির জন্য দরজা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করি। দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিতেও চিনা বিনিয়োগ বন্ধের ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু করতে চলেছে কেন্দ্র।

বুধবার গড়করি বলেন, সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে যে সমস্ত যৌথ অংশীদারিত্বে চিনা সংস্থা জড়িয়ে রয়েছে, আমরা সেগুলিকে অনুমতি দেব না। এ ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। গড়করি জানান, চিনা সংস্থাগুলিকে নিষিদ্ধ করে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে যাতে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার খুব শীঘ্র একটি নীতি প্রণয়ন করবে। ইতিমধ্যে টিকটক, ইউসি ব্রাউজার সহ মোট ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে চিন যে বিশেষ খুশি হয়নি সেটা বেজিংয়ের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার। এখন যে সড়ক প্রকল্পগুলির কাজ চলছে, তার অনেকগুলিতে চিনা সংস্থাকে সঙ্গে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই হয়েছিল। এ ব্যাপারে গড়করির বক্তব্য, যে প্রকল্পগুলি চলছে এবং যেগুলি ভবিষ্যতে করা হবে, সেগুলির ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় চিনা সংস্থা জড়িত রয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য নতুন করে টেন্ডার ডাকা হবে। এ ব্যাপারে ভারতের সংস্থাগুলিকে শামিল করার জন্য নিয়মবিধি সহজ করার জন্য জাতীয় সড়ক সচিব এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।

- Advertisement -

ভারতীয় সংস্থাগুলি যাতে ওই প্রকল্পে ঢুকতে পারে সেজন্য প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক শর্তগুলি পালনে কিছু ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও সড়কমন্ত্রী করছেন। গড়করির সাফ কথা, যে ঠিকাদার সংস্থা ছোট প্রকল্পে বরাত পাওয়ার যোগ্যতা রাখে, সেই সংস্থা বৃহৎ প্রকল্পগুলিতে শামিল হওয়ার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারে। তবে বিদেশি কোনও সংস্থাকে শামিল করা হলেও সেই সংস্থা যাতে কোনওভাবেই চিনা না হয় সে ব্যাপারে তাঁরা সতর্ক থাকবেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগে কোনও অসুবিধা না থাকলেও চিনা বিনিয়োগ কোনওভাবেই যে বরদাস্ত করা হবে না সেকথাও জানিয়ে দিয়েছেন গড়করি। চিন থেকে আমদানি কমানোর পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।