তৃণমূল নেতাকে পিটিয়ে খুন, রাজ্য বিজেপির এক নেতা সহ গ্রেপ্তার আট

156

বর্ধমান: তৃণমূলের বুথ সভাপতিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার বিজেপির ওবিসি মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য সহ ৮ জন। ধৃতরা আশীষ ঘোষ, স্বপন দাস, দোয়েব মাঝি, লবান মাঝি, রাজা মাঝি, নিখিল ঘোষ, বাপি দাস ও জগন্নাথ ঘোষ। বুধবার রাত ভোর অভিযান চালিয়ে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা সকলেই মঙ্গলকোটের নিগন এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ধৃতদের কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে আশীষ ঘোষ, স্বপন দাস, রাজা মাঝি এবং লবান মাঝিকে হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। আবেদনের ভিত্তিতে ওই চার জনের ৫ দিনের পুলিশি হেপাজত ও বাকিদের ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে , নিহত সঞ্জিত ঘোষ (৩৯) ওরফে কালুর বাড়ি মঙ্গলকোট থানার নিগন গ্রামে। তিনি নিগন গ্রামের ১৯৭ নম্বর বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ, গত মঙ্গলবার দুপুরে বিজেপি কর্মীরা লাঠি ও রড দিয়ে তাকে নির্মম ভাবে পেটায়। বিশ্বজিতকে মারধোরের ঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই বিজেপি কর্মীরা মঙ্গলকোটের তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ইব্রাহিম খানকেও ব্যাপক মারধোর করে। দু’জনকেই উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা সংকটজনক থাকায় সঞ্জিতকে স্থানান্তরিত করা হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। রাতেই মারা যান তিনি।

- Advertisement -

এদিকে, ঘটনার পরেই নিহত তৃণমূলের বুথ সভাপতির বাবা সাগর ঘোষ তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে ২৭জন বিজেপি নেতা-কর্মীর নামে বুধবার মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে রাতেই ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও পুলিশ তল্লাশি জারি রেখেছে। দ্রুত বাকি অভিযুক্তরাও ধরা পড়বে বলে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ কর্তারা দাবি করেছেন।

মঙ্গলকোট ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপূর্ব চৌধুরি বলেন, ‘বিজেপি মঙ্গলকোটকে অশান্ত করল। তবুও আমরা বদলার রাজনীতি চাই না। আমরা চাই শান্তি । তাঁর কথায়, শুক্রবার ওই গ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের। নিহতের বাড়িতেও যাওয়ার কথা রয়েছে।

খুনের ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি করেছেন নিহতের মা নমিতা ঘোষ এদিনও বলেন, ‘বিজেপির লোকজন আমার ছেলের প্রাণ কেড়ে নিল।শাবল দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ওরা আমার ছেলেকে মেরেছে।’

কাটোয়ার বিজেপি নেতা অনিল দত্ত যদিও এদিনও দাবি করেন, ‘খুনের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। বিজেপি কর্মীদের ফাঁসানো হল।’