সড়ক সম্প্রসারণের বলি আট হাজার গাছ

64

বিশ্বজিত্ সরকার, রায়গঞ্জ: জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য উত্তর দিনাজপুরের রূপাহার থেকে ডালখোলা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় আট হাজার শতাব্দীপ্রাচীন গাছ কাটা পড়েছে। এতে এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এতে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও পরিবেশের ভারসাম্যটাই ভেঙে পড়েছে। খুব শীঘ্রই যদি এখানে বনসৃজনের কাজ না করা হয়, তবে সমস্যা আরও বাড়বে। হাজার হাজার পাখি এই পুরোনো গাছগুলিতে থাকত। গাছ কেটে নেওয়ায় অনেক পাখি আজ এখান থেকে বিলুপ্ত। এডিএফও সীতাংশুকুমার গুপ্তার দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য আমাদের গাছ কাটতে হয়েছে। এর চারগুণ গাছ আমরা খুব শীঘ্রই লাগাব।

রূপাহার থেকে ডালখোলা পর্যন্ত অসংখ্য মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়া হলেও শাল, সেগুন, শিমুল, কাঁঠাল, আমের মতো মূল্যবান গাছ আর লাগানো হয়নি। তেমনটাই অভিযোগ পরিবেশবিদদের। শুধু তাই নয়, তাঁদের অভিযোগ, মূল্যবান গাছ কাটার কাজ এখনও অব্যাহত। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, রাস্তার মাঝখানে তৈরি ডিভাইডারে মাটি ফেলে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গাছ লাগানোর কথা বন দপ্তরের। তারা বন দপ্তরকে সেটা জানিয়ে দিয়েছে।

- Advertisement -

পরিবেশবিদ সঞ্জিত গোস্বামী বলেন, ময়না চেকপোস্ট থেকে রূপাহার পর্যন্ত ডিভাইডারের মধ্যে কিছু গাছ দেখা যায়। কোনওটা ফুলের গাছ, কোনওটা পাতাবাহারের। মূল্যবান কোনও গাছ লাগানো হয়নি। যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে সেই পরিমাণ গাছ লাগানো উচিত ছিল বন দপ্তরের। তাতে পরিবেশের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে সমস্যা হত না। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য আট বছর আগে জেলায় ১৫ হাজার গাছ কেটে ফেলা হলেও বনসৃজন করা হয়নি।

বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে যখন বৃক্ষরোপণের প্রবণতা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় রায়গঞ্জ থেকে ডালখোলা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য কেটে ফেলা হচ্ছে জীবনদাযী গাছগুলি। এতে ক্ষোভ জমছে পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে। যদিও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গাছ না কেটে সড়ক সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। এডিএফও সীতাংশুকুমার গুপ্তা বলেন, ইটাহার এলাকার জাতীয় সড়কের দুধারে এক বছর আগে ৫০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। তবে জেলার অন্যত্র জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ না হলে বনসৃজনের কাজ সম্ভব নয়। শিলিগুড়ি মোড় থেকে কর্ণজোড়া পর্যন্ত রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের পর বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

এদিকে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের দুধারে থাকা ১৫ হাজার গাছ কাটা হয়। বর্তমানে রূপাহার থেকে ডালখোলার পূর্ণিয়া মোড় পর্যন্ত পুরোনো ৫৪০০টি গাছ রয়েছে। এদিকে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ ধীরগতিতে চলায় সকলেই ক্ষুব্ধ। বন দপ্তর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাজ্যে বনাঞ্চলের গড় পরিমাণ যেখানে ১৩.৬ শতাংশ, সেখানে উত্তর দিনাজপুর জেলায় মাত্র আট শতাংশ বনাঞ্চল রয়েছে। মাত্র ০.৩২ শতাংশ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সংরক্ষিত বনাঞ্চল বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে রাস্তার ধারে এবং স্কুলবাড়ির আনাচেকানাচে গাছ লাগিয়ে সামাজিক বনসৃজনে দপ্তরের তরফে প্রতি বছর নজর দেওয়া হয়।

রায়গঞ্জ নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী বলেন, শিলিগুড়ি মোড় থেকে কর্ণজোড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ৭৫০টি গাছ কাটা হলেও একটি গাছও লাগায়নি বন দপ্তর। ডিভাইডারের মাঝখানে গাছ লাগানোর কথা ছিল বন দপ্তরের। কিন্তু বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও কোনও গাছ লাগানো হয়নি। এতে বাস্তুতন্ত্রের বিঘ্ন ঘটছে। গাছ লাগানোর ব্যাপারে বন দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।