করোনার টিকাকরণ কেন্দ্র দূরে থাকায় সমস্যায় প্রবীণরা

76

গয়েরকাটা: করোনা আতিমারির মধ্যেই টিকাকরণের জন্য প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ছুটতে হচ্ছে জলপাইগুড়ি জেলার অন্যতম বৃহৎ সাঁকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জনগণকে। কারণ স্থানীয় এলাকায় টিকাকরণের কোনও ব্যবস্থা নেই। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়েবসাইট ‘কোউইন’ এ রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে সাঁকোয়াঝোরা-১ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নামে রেজিস্ট্রেশন হলেও বাস্তবে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখনও ভ্যাকসিন দেওয়া চালু হয়নি। এদিকে অতিমারির মধ্যে এতটা দূরে গিয়ে টিকা নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রবীণদের। পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় এবং টিকাকরণ কেন্দ্রগুলিতে ভিড়ের কারণে দার্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে নাজেহাল হচ্ছেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

সাঁকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের জনগণকে বর্তমানে ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল, বানারহাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা দুরামারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে টিকারনরণের জন্য লাইন দিতে হচ্ছে। গয়েরকাটার প্রবীন বাসিন্দা শেফালি দত্ত জানান, গয়েরকাটা সহ সাঁকোয়াঝোরার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সরকারের উচিৎ ছিল লোকালয়ে কোথাও টিকাকারণের ব্যবস্থা করা। তা না করে তাঁদের মতো প্রবীণদের ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে টিকা নিতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা শুভজিৎ দত্ত-র বক্তব্য, ‘সাঁকোয়াঝোরা-১ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নামে কোউইন-এ নাম নথিভুক্ত হচ্ছে। সিডিউল তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এখানে টিকা দেওয়া হচ্ছে না।’ গয়েরকাটা নাগরিক উন্নয়ন মঞ্চের সভাপতি দীপক সরকার বলেন, ‘এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫০ হাজার জনগণকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সরকার। আগামী তিনদিনের মধ্যে সাঁকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে টিকাকরণ শুরু না হলে আমরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রর গেটে তালা লাগিয়ে ঘেরাও করব।’ যদিও ধূপগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুরজিত ঘোষ জানান, টিকাকরণ শুরু হওয়ার আগে থেকেই সাঁকোয়াঝোরা-১ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে টিকাকেন্দ্র হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাই ওয়েবসাইটে নাম এখনও দেখাচ্ছে। কিন্তু ওখানে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা থাকায় টিকাকরণ এখনও শুরু করা যায়নি। সেখানে টিকাকরণ দ্রুত শুরু করা যায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমস্যা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা বসু। ধূপগুড়ির বিডিও শঙ্খদীপ দাস জানান, সাকোয়াঝোরা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতে কিছুদিনের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

- Advertisement -