মন্ত্রী বিপ্লবকে পোলাও খাওয়ানোর অপেক্ষায় দিদি

99

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : দক্ষিণ দিনাজপুরে রাজনীতির অন্যতম মুখ হলেও এতদিন মন্ত্রিত্ব অধরাই ছিল বিপ্লব মিত্রের। এবার তাঁর কপাল খুলেছে। মমতার তৃতীয় মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পেয়েছেন তিনি। প্রথমেই পূর্ণমন্ত্রী। তাঁর চওড়া কাঁধে কৃষি বিপণন দপ্তরের গুরুদায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গঙ্গারামপুরের মিত্রবাড়ির মেজো ছেলের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে সোমবার পরিবারে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছিল। সাত ভাই, দুই বোনের বিশাল একান্নবর্তী পরিবার। বিপ্লববাবুর সঙ্গে দুই ভাই কলকাতায় রয়েছেন। তাই এদিন বাড়িতে সেভাবে বিশেষ কিছু রান্না হয়নি। বাবা-মায়ের অবর্তমানে সংসারের অভিভাবক দিদি বনানী মিত্র। তাঁর হাতে তৈরি পোলাও খেতে ভালোবাসেন সবাই। বনানী জানালেন, ভাই বাড়ি ফিরলে পোলাও রান্না করে খাওয়াব। ও মাছ-মাংস খেতে খুব ভালোবাসে। তবে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ায় এখন অনেক কিছুই আর খায় না।

- Advertisement -

খাওয়া ছাড়াও বিপ্লববাবুর শখ বই পড়া। দিদি বলছিলেন, ছোট থেকেই ও খুব শান্ত। পড়াশোনা আর নিজের মধ্যেই থাকতে ভালোবাসত। আর বিপ্লববাবু বলেন, মানুষের সঙ্গে থাকা, কথা বলাই আমার বেশি পছন্দের। অবসর সময়ে বই পড়ার নেশাটা আজও থেকে গিয়েছে। লতা মঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাসদের গান শুনতে ভালো লাগে।

দাদু দীনেশচন্দ্র ঘোষ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক ছিলেন। কঠোর অনুশাসন মেনে চলতেন তিনি। বাবা স্বর্ণকমল মিত্র ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, অনুশীলন সমিতির সক্রিয় সদস্য। দেশভাগের পর গঙ্গারামপুরে এসে কংগ্রেস করা শুরু করলেও অনুশীলন সমিতির শেখানো অনুশাসন মেনেই চলতেন। তিনি ছিলেন ভালো মুষ্টিযোদ্ধা। সকালবেলা শরীরচর্চা করতেন নিয়মিত। বাবার এই অভ্যাসগুলিই বিপ্লববাবুর মধ্যে রয়ে গিয়েছে। মায়ের কড়া নজরে বিপ্লববাবুদের সাত ভাইকে নিয়মিত শরীরচর্চা, লাঠিখেলা করতে হত। মা এবং বিপ্লববাবুর অনুশাসনেই এই পরিবারে চা, পান, সিগারেট সহ সমস্তরকম নেশা এখনও নিষিদ্ধ।

রায়গঞ্জ কলেজে পড়ার সময় ছাত্র পরিষদে রাজনীতির হাতেখড়ি বিপ্লববাবুর। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়তে গিয়ে সেখানেও ছাত্র রাজনীতি করেছেন। অবিভক্ত পশ্চিম দিনাজপুরে ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সভাপতি, পরবর্তীতে জেলা কংগ্রেসের সভাপতিও হয়েছেন। ১৯৯৮ সালে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল গঠন করেন, তখন নতুন দলের রাজ্যের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বিপ্লব মিত্র। ১৯৯৯ সালে তিনি রায়গঞ্জ লোকসভা আসন থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ২০১১ সালে বিধায়ক হলেও তাঁকে মন্ত্রী করা হয়নি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের এক মাস আগে জেলা সভাপতির পদ হারান তিনি। পরে তা ফিরে পেলেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিপ্লব মিত্রকে ফের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেন তৃণমূল নেতৃত্ব। অভিমানে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। গতবছর দলে ফিরে এসে এবার সিধে মন্ত্রিত্ব।