কদিন পর মরবেন, ঘরে কী হবে-শুনতে হল রজনীকান্তকে

136

উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি : বার্ধক্য যেন সত্যিই অভিশাপ। একে তো দেখার কেউ নেই। দুই ছেলে আছে বটে, কিন্তু খোঁজ রাখে না। নিরাশ্রয় রজনীকান্তকে তাই ঘর চাইতে গিয়ে শুনতে হয়, মৃত্যু যাঁর দোরগোড়ায়, পাকা ঘর দিয়ে তিনি কী করবেন? অন্তত ধূপগুড়ির মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে পূর্ব মাগুরমারির হরিমন্দিরপাড়ায় ৭৫ বছর বয়সি রজনীকান্তের তাই অভিযোগ। তাঁর মাথা গোঁজার আশ্রয় বলতে টিনে ঘেরা একটা ভাঙাচোরা ঘর। ঝড়-বাদলের সময় সেটা আর আশ্রয়ও থাকে না। শৌচালয় নেই। এই বয়সেও শৌচকর্ম সারতে যেতে হয় মাঠেঘাটে। সরকারি প্রকল্পে পাকা ঘর এবং শৌচালয় চেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে আবেদন করেছিলেন। অভিযোগ করে রজনীকান্ত বলেন, ঘর দেওয়া তো দূরের কথা, আমাকে বলা হয়েছে- কদিন বাদে যাঁর মারা যাওয়ার কথা, তিনি পাকা ঘর নিয়ে কী করবেন?

অভিযোগের তির এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য সুচিত্রা ঘোষের দিকে। তিনি অবশ্য এমন মন্তব্য অস্বীকার করেছেন। কিন্তু ওই বৃদ্ধের জন্য কোনও সহানুভূতিও শোনা যায়নি তাঁর মুখে। নিজের ঘাড় থেকে বরং দায় ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছেন । সুচিত্রার বক্তব্য, ঘর দেওয়ার বিষয়টা সরকারের ব্যাপার। ওটা সরকার জানে। এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। পঞ্চায়েতের প্রধান কাবেরী রায় অবশ্য বলেন, আমি নিজে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে যাব। সরকারিভাবে যা সাহায্য করা যায়, করা হবে।

- Advertisement -

রজনীকান্ত থাকেন তাঁর ৭০ বছর বয়সি স্ত্রীকে নিয়ে ।দুই ছেলে আছে। কিন্তু তাঁরা কেউ গ্রামে নেই। খোঁজও রাখেন না তাঁরা। রজনীর বক্তব্য, একটা ঘরের জন্য বহুবার বিডিও অফিস থেকে শুরু করে পঞ্চায়ে দপ্তরে ছুটোছুটি করেছি, যাতে আমি মরে গেলে বুড়িটা অন্তত নিরাপদে থাকে। কিন্তু ঘর মেলেনি।

একসময় দিনমজুরি করতেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন পারেন না। মাস গেলে ভরসা শুধু বার্ধক্য ভাতা। বহু চেষ্টা করেও স্ত্রীর জন্য বার্ধক্য ভাতার ব্যবস্থা করাতে পারেননি। যৎসামান্য টাকায় সংসার চলে না। বাধ্য হয়ে ৭০ বছর বয়সে লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন রজনীর স্ত্রী গজবালা। আয় সামান্যই। সারাদিন হাত পুড়িয়ে রান্না করে মেলে মাত্র ৫০ টাকা। জয়ন্ত রায় এই গ্রামেরই বাসিন্দা। তিনি বলেন, ভোট চাইতে নেতারা অবশ্য রজনীবাবুর বাড়িতে ঠিকই হাজির হন।  কিন্তু পাশে দাঁড়ান না কেউ। আমরা প্রশাসনে ওঁর ঘরের জন্য আবেদন জানিয়েছি। লাভ হয়নি।

রজনীকান্তের স্ত্রী গজবালা আর আশা দেখেন না। হাল ছেড়ে তিনি বলেন, ঘরের জন্য দু-দুবার সমীক্ষা করে গিয়েছিল। কিন্তু ঘর মেলেনি। এর আগে পানীয় জলের জন্য পঞ্চায়েতে আবেদন করেছিলাম। অনেক বছর অনুনয়-অনুরোধ করার পর টিউবওয়েল মিলেছে। বর্ষায় ঘরে জল পড়ে। তখন অসুস্থ মানুষটাকে খাটের তলায় ঢুকিয়ে রেখে আমি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিই।