গাছতলায় ৭৫ বছর বিনা বেতনের শিক্ষক নন্দ

633

ভুবনেশ্বর : কর্ম করে যাও, ফলের আশা কোরো না। দুই-দশ বছর নয়। গত ৭৫ বছর ধরে ভগবদ্গীতার এই উপদেশ মেনে কর্ম করে যাচ্ছেন নন্দ প্রাস্তি। ওডিশার জয়পুর জেলার বারতান্ডা গ্রামের বাসিন্দা এই বৃদ্ধের কাজ হল, বিনা বেতনে শিক্ষার আলোকে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। গ্রামের একটি গাছের নীচে চলছে তাঁর পাঠশালা। সাড়ে সাত দশক আগে যাঁদের পড়াতেন, আজ তাঁদের নাতি-নাতনিদের সন্তানরা নন্দের পড়ুয়া। তবে শুধু শিশুরা নয়, বয়স্করাও তাঁর কাছে পড়তে আসেন। পড়ানোর জন্য কারও কাছ থেকে এক টাকাও নেন না তিনি। বছরের পর বছর বিনা অর্থে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখা বৃদ্ধটি বারবার সরকারি সাহায্যের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে তাঁকে পড়ানোর জন্য পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও নন্দ রাজি হননি। খোলামেলা পরিবেশে গাছের নীচে পড়ানোয় তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ বলে সবিনয়ে জানিয়েছেন। দল বেঁধে আসা পড়ুয়ারাও খুশি মনে গাছতলায় বসে পড়াশোনা করে। গ্রামের শিশুরা যাতে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে হাইস্কুলে ভর্তি হয়, সেজন্য অভিভাবকদের সবসময় সচেতন করেন নন্দ।

বৃদ্ধের কথায়, আগে চাষবাস করতাম। দেখলাম, গ্রামের অনেকে নিজের নামটুকওু লিখতে পারেন না। টিপসই দেন। প্রথমে সেইসব মানুষকে নাম সই করা শেখাতাম। নিজের নাম লেখা শেখার পর অনেকের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। তখন ভগবদ্গীতার উপদেশ মানুষকে জানাতে শুরু করি। পরে সেই শিক্ষার পরিধি আরও বেড়েছে। আমার প্রথম দিকের ছাত্রছাত্রীদের নাতি-নাতনিদের ছেলেমেয়েরা এখন আমার কাছে পড়ছে। বারতান্ডার পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, নন্দকে বহুবার পাকা ঘরের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরাও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি প্রকৃতির কোলে পড়াতেই ভালোবাসেন। বোলপুর থেকে বহু দূরে যেন এক টুকরো শান্তিনিকেতন গড়ে তুলেছেন নন্দ।

- Advertisement -