নাতনির বিয়েতে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিলেন ঠাকুমা

453

ময়নাগুড়ি : নাতনির বিয়েতে সাতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করলেন ঠাকুমা। এর সঙ্গে ৭০টি শ্রমিক পরিবারের হাতে চাল তুলে দিলেন তিনি। বৃদ্ধা নিভারানি মজুমদারের এই ইচ্ছাপূরণ করতে তাঁর ছেলে সজল মজুমদার সাহায্য করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আলাদাভাবে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে ময়নাগুড়ি শহরের আনন্দনগরপাড়ার বাসিন্দা সজল মজুমদারের মেয়ে সুইটির বিয়ে অনুষ্ঠানে সবার নজর কাড়ে এই বিষয়টি।

এদিন ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দনগর খেলার মাঠ হেলথ সেন্টারকে একটি, ময়নাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতিকে একটি, ময়নাগুড়ি থানাকে একটি ও পাড়ার ইযুথ ক্লাব ও বিবেকানন্দ ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে একটি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার তুলে দেওয়া হয়। রামশাই এলাকার কালীপুর বনবস্তি ও ভেলোয়ারডাঙ্গা এলাকার ৭০টি পরিবারের হাতে পাঁচ কুইন্টাল চাল তুলে দেওয়া হয়। পাত্রী সুইটি মজুমদার ও পাত্র কঙ্কন বিশ্বাসের বিয়ে অনুষ্ঠানে এমন অভিনব ভাবনা পাত্রীর ঠাকুমার।

- Advertisement -

নিভারানিদেবী বলেন, আমি ছেলে সজলকে বলেছিলাম, নাতনির বিয়েতে দুঃস্থদের জন্য কিছু করব। কোভিড পরিস্থিতি আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আমার ছেলে কথা রেখেছে। লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ময়নাগুড়ির মানুষ এই অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজনে ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। মানুষের স্বার্থে কাজ করে বেশ ভালো লাগছে। সজলবাবুর বাড়ি লাগোয়া আনন্দনগরপাড়ায় তাঁর একটি ছোট মুদিখানার দোকান রয়েছে। তিনি বলেন, আগাগোড়াই আমার ও মায়ের এই পরিকল্পনা ছিল। বহুদিন আগে থেকেই এমন চিন্তাভাবনা। ঠাকুমা এবং বাবার এই উদ্যোগে বেজায় খুশি পাত্রী সুইটি। সুইটি বলেন, এটা আলাদা ধরনের তৃপ্তি। আমার বিয়ের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএমওএইচ ডাঃ রাজীব বিশাল এবং ফার্মাসিস্ট ব্রজেন মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। ময়নাগুড়ির বিডিও শুভ্র নন্দী, ময়নাগুড়ি ব্যবসাযী সমিতির সম্পাদক বজরংলাল হিরাউত এবং সহকারী সম্পাদক সুমিত সাহা, ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিবম রায়বসুনিয়া সহ ময়নাগুড়ির বার্নিশ সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মনোজ রায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ময়নাগুড়ি ইয়ুথ ক্লাব,  বিবেকানন্দ ক্লাব, থানার আধিকারিক ও আশপাশের চা শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।  বিডিও শুভ্র নন্দী বলেন, এমন অনুষ্ঠান আগে কখনও দেখিনি।

ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিবম রায়বসুনিয়া বলেন, না এলে ভুল করতাম। ময়নাগুড়ি থানার সাব-ইনস্পেকটর শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, অনেক কিছু শেখার আছে আগেকার দিনের মানুষের কাছ থেকে। আমি শ্রদ্ধা জানাই পাত্রীর ঠাকুমা নিভারানি মজুমদারকে। ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট ব্রজেন মণ্ডল বলেন, আমাদের হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা সাংঘাতিক। উপস্থিত অতিথিরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।