অনিশ্চয়তার পাহাড়ে ভোটের লড়াই এবার হাড্ডাহাড্ডি

110

রণজিৎ ঘোষ, দার্জিলিং : পাহাড়ের তিনটি কেন্দ্রেই এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। দীর্ঘদিন বাদে পাহাড়ের মানুষও কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। ফলে দল ছাপিয়ে ব্যক্তিগত ইমেজেই এবার ভোটের ঝুলি ভরতে পারে প্রার্থীদের।   এতদিন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কথা মেনে বিজেপিকে ভোট দিয়ে এসেছে গোটা পাহাড়। কিন্তু এবার মোর্চা বিজেপির সঙ্গে তো নেই, এমনকি নিজেরাই দুই শিবিরে বিভক্ত। ফলে এবার পাহাড়ের তিনটি কেন্দ্রেই ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থীর কপালে জয়তিলক পড়বে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনৈতিক মহল।

একটা সময় ছিল যখন সুবাস ঘিসিং যেভাবে বলতেন, পাহাড়ের রাজনীতি সেভাবেই চলত। এমনকি ঘিসিংয়ের ডাকে ভোট বয়কটের পথেও হেঁটেছিল গোটা দার্জিলিং পাহাড়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে পাহাড়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা তৈরি হয়। সেই সময় থেকে পাহাড়ের রাজনীতির রাশ হাতে নেন বিমল গুরুংরা। মোর্চা তৈরি হওয়ার পর প্রথম ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হাত ধরেন বিমলরা। সেই বছরের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী যশবন্ত সিনহা আড়াই লক্ষাধিক ভোটে দার্জিলিং কেন্দ্রে জয়ী হন।

- Advertisement -

সেই শুরু। এরপর ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও মোর্চা বিজেপিকে সমর্থন করে, যার জেরে কার্যত পাহাড়ে সেভাবে কোনও সংগঠন না থাকলেও দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে লক্ষ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থীরা। এমনকি ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও মোর্চা বিজেপির জোটে থেকেই পাহাড়ে লড়াই করেছে এবং তিনটি কেন্দ্রে জয়ী হয়ে বিজেপিকে সমর্থন করেছে।

গত কয়েকক দশক ধরে পাহাড়ের ভোট কোন দিকে যাচ্ছে বা কে জিতবেন, কে হারবেন তার আভাস ভোটের অনেক আগেই পাওয়া যেত। কিন্তু এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি পালটে গিয়েছে। ২০১৭ সালে মোর্চা নেতা বিনয় তামাং, অনীত থাপা বিমলের সঙ্গ ছেড়ে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলান। গতবছর একইভাবে বিমলও বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে তৃণমূলের হাত ধরেছেন। কিন্তু বিনয় এবং বিমল শিবির এক হতে পারেনি। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এমনকি দলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরও বিমল, বিনয় শিবিরকে এক করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন।

মোর্চার দুই শিবিরই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পৃথকভাবে প্রার্থী দিয়েছে। বিমল শিবিরের প্রার্থীর যেমন পাহাড়ে যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে, তেমনই বিনয় শিবিরের তিন প্রার্থীরও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির তিন কেন্দ্রের প্রার্থীও যথেষ্ট প্রভাবশালী। কাজেই পাহাড়ের ভোটে এবার দলকে ছাপিয়ে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজও প্রাধান্য পেতে পারে। দার্জিলিং হোক বা কালিম্পং, কার্সিয়াং তিনটি কেন্দ্রেই এবার লড়াই জমে উঠেছে।