মার্চে ভোট ঘোষণা করতে পারে কমিশন

297

কলকাতা: বিজেপি এরাজ্যে ১০ দফায় ভোট গ্রহণের দাবি তুলেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে দাবি পূরণ করা হয়তো কমিশনের পক্ষে সম্ভব হবে না। জানা যাচ্ছে, ৬ থেকে ৭ দফাতেই এ রাজ্যে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। তড়িঘড়ি এ মাসেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে ফেলতেও রাজি নয় কমিশন। বাংলা সহ চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ফেব্রুয়ারি মাসে ভোট ঘোষণার সম্ভাবনা কম।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চের প্রথমে ভোট ঘোষণা হতে চলেছে। বিজেপির দাবি মেনে বেশি দফায় ভোট করাতে গেলে পরিকাঠামোজনিত সমস্যা অনেকটাই বেড়ে যেত। সেটা এড়াতে চাইছে কমিশন। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়টি চড়ান্ত হওয়ার কথা।

- Advertisement -

মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই সারা দেশে সিবিএসই বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। তাই তার আগে ভোটপ্রক্রিয়া সেরে ফেলতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। চারটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে মে ও জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই সেখনেও তার আগে ভোটপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। বিজেপির তরফে প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনের ওপর বাংলায় নির্বাচন নিয়ে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। কারণ বিজেপি চাইছে, ভোটের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এরাজ্যে যেন কার্যত কমিশনের শাসন শুরু হয়ে যায়।

কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কেন্দ্রীয় অফিসাররা বাংলার দখল নিয়ে নিলে রাজ্য সরকারের কর্তৃত্ব কমে যাবে। সেটাই চাইছে বিজেপি। রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের খবরদারি থাকলে বিজেপি হালে পানি পাবে না বলে দলের অন্দরের রিপোর্ট। ইতিমধ্যে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরও বেশ কয়েকবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নালিশ জানিয়ে এসেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ রিপোর্ট জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিজেপি বারবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নালিশ জানাচ্ছে।

বিজেপি ১০ দফা ভোটগ্রহণের দাবির সঙ্গে পুলিশের জন্য আলাদা পর্যবেক্ষক নিযোগ করতে বলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো বাহিনীকে যাতে থানায় বসিয়ে না রেখে বুথ ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় তার দাবিও তুলেছে। এবার রাজ্যে করোনার পরিপ্রেক্ষিতে বুথের সংখ্যা অনেকটাই বাড়াতে হয়েছে। আগে রাজ্যে ৭৮ হাজার বুথ ছিল। এবার তা বেড়ে লক্ষাধিক হয়েছে। ওইসব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিতে অন্তত পক্ষে ১০০ কোম্পানি বাহিনী দরকার। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীগুলির শীর্ষকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছে, নির্বাচনের জন্য তারা কত বাহিনী দিতে পারবে। এই হিসেব কষা শেষ হলেই তারা ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে পারবে।

এবার বাংলাতেই অবশ্য সবচেয়ে বেশি দফায় ভোট হবে। অসমে দুই থেকে তিন দফায় ভোট হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতে এক দফাতেই ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা। বুধবার থেকেই নির্বাচন কমিশন তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কেরল সফরে বেরিয়েছে। সেখানে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এরাজ্য ও অসমে ফুল বেঞ্চ আগেই ঘুরে গিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা ও অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুশীল চন্দ্র ও রাজীব কুমার ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি তামিলনাড়ুতে থাকবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁরা পুদুচেরি সফর সেরে ১৩ ও ১৪ তারিখ কেরলে সেখানকার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ভোটপ্রস্তুতি নিয়ে কথা বলবেন। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও কমিশন কথা বলবে।