করোনা আবহে বুধবার বিহারে বিধানসভা নির্বাচন

356

নয়াদিল্লি ও পাটনা: বুধবার বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ৭১টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। করোনা পরিস্থিতিতে এই প্রথম দেশে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভোট হতে চলেছে। সেকারণে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটপ্রক্রিয়া সুষ্ঠু এবং নির্বিঘ্ন করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে করণীয় সম্পর্কে লম্বা ফিরিস্তি প্রকাশ করা হয়েছে কমিশনের তরফে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি সংক্রমণ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং থার্মাল গানের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ভোটকর্মী থেকে প্রার্থীদের এজেন্ট এবং ভোটার, সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ও ফেসকভার ব্যবহার করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সমস্ত বুথ স্যানিটাইজ করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে ১ হাজার জন ভোট দিতে পারবেন।

ভোটকর্মীরা ইতিমধ্যে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট যন্ত্র নিয়ে বুথে পৌঁছে গিয়েছেন। বুধবার ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাতটায়। চলবে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। বিহারের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক এইচআর শ্রীনিবাস জানিয়েছেন, ৭১টি আসনের মধ্যে ৩৫টি মাওবাদী অধ্যুষিত জেলায়। এর মধ্যে চেইনপুর, নবিনগর, কুটুম্বা এবং রফিগঞ্জ কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে বিকেল তিনটে পর্যন্ত। মাওবাদী এলাকার পাশাপাশি অন্য সমস্ত বুথে থাকছে আধাসেনা। মাওবাদী এলাকার বুথে অতিরিক্ত সশস্ত্র বাহিনী মোতায়ে করা হয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে হেলিকপ্টারে আকাশপথে নজরদারির ব্যবস্থাও হয়েছে।

- Advertisement -

বুধবার মোট ১০৬৬ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ২.১৪ কোটিরও বেশি ভোটার। প্রথম দফায় ৭১টি আসনের মধ্যে বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে ২৯টিতে, জেডিইউ দিয়েছে ৩৫টিতে এবং হাম (এস) দিয়েছে ৬টিতে। মুকেশ সাহানির ভিআইপি একটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বিরোধী মহাজোটের মধ্যে আরজেডির প্রার্থী আছে ৪২টি আসনে, কংগ্রেসের ২১টি এবং সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন ৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি ৪২টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে। প্রথম দফার ভোটের প্রচারে ‘কাঁটে কা টক্কর’ দেখা গিয়েছে এনডিএ এবং বিরোধী মহাজোটের মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারদের মোকাবিলায় প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি, আরজেডি-র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব এবং সিপিআই নেতা কানহাইয়া কুমার সমানে সমানে তাল ঠুকেছেন। বিরোধী শিবিরের তিন নেতার প্রায় প্রতিটি জনসভাতেই উপচে পড়েছে ভিড়। ফলে শুরুর দিকে এনডিএ একতরফা লড়াই করবে বলে জল্পনা শুরু হলেও রাহুল, তেজস্বী, কানহাইয়ারা যেকোনও অংশে কম যান না, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে তেজস্বী যাদব তথা বিরোধী মহাজোটের তরফে লাগাতার ১০ লক্ষ সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি বিহারের যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে সমর্থ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিহারের দৈনিকগুলিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দেখে বিরোধী শিবির কটাক্ষ করে বলতে শুরু করেছে, লড়াই হচ্ছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে লড়াই করার অর্থ কী? তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ক্রমাগত ব্যক্তিগত আক্রমণ, লালু-রাবড়ি জমানায় বিহারের পরিস্থিতি নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে বিতর্কের পারদ তুঙ্গে উঠেছে।

অনেকে বলছেন, নীতীশ কার্যত ত্রিমুখী আক্রমণের শিকার। আরজেডি-কংগ্রেস-বামেদের প্রকাশ্য বিরোধিতা তো রয়েছে। নীতীশ কুমারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাশাপাশি জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে প্রথম দফার ভোটের আগে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন এলজেপি নেতা চিরাগ পাসোয়ান। তাঁর লাগাতার আক্রমণের নেপথ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কলকাঠি নাড়ছেন কিনা, তা নিয়ে চিন্তিত নীতীশ। সবমিলিয়ে প্রথম দফার ভোট শুরুর আগে বিহারের রাজনৈতিক বাতাবরণ যে যথেষ্ট উত্তপ্ত তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিহারে পরের দুই দফায় ভোট হবে যথাক্রমে ৩ ও ৭ নভেম্বর। ফল প্রকাশিত হবে আগামী ১০ নভেম্বর।